আপনার কাছে কি আজও ২০০০ টাকার নোট আছে? ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কীভাবে বদলাবেন, জেনে নিন শেষ উপায়!

২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক নোটবন্দির স্মৃতি আজও ভারতবাসীর মনে টাটকা। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর বাজারে এসেছিল ২০০০ টাকার গোলাপী নোট। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই নোটের ভবিষ্যৎ কী? আপনার ড্রয়ারে বা আলমারিতে যদি এখনও ২০০০ টাকার নোট পড়ে থাকে, তবে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ‘ক্লিন নোট পলিসি’র অধীনে এই নোটগুলি সরিয়ে নিলেও, তা এখনও আইনিভাবে ‘অবৈধ’ নয়। তবে এর ব্যবহারিক ক্ষমতা প্রায় শূন্য।

এখনও কি ২০০০ টাকার নোট বৈধ? সুপ্রিম কোর্টের বিশেষজ্ঞ আইনজীবী বি. শ্রাবন্ত শঙ্কর জানিয়েছেন, ২০২৬ সালেও ২০০০ টাকার নোট বৈধ মুদ্রা হিসেবে বজায় রয়েছে। তবে এটি দিয়ে আপনি বাজারে কেনাকাটা করতে পারবেন না। সাধারণ ব্যাংক শাখাগুলিতে এই নোট বদলানোর সময়সীমা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, এখন আর পাড়ার ব্যাংকে গিয়ে এই নোট জমা দেওয়া সম্ভব নয়।

২০২৬ সালে নোট বদলানোর পদ্ধতি: আপনার কাছে থাকা নোটগুলি বদলানোর জন্য বর্তমানে দুটি রাস্তা খোলা আছে:

১. RBI ইস্যু অফিস: দেশের ১৯টি নির্দিষ্ট আরবিআই অফিসে (যেমন- কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, পাটনা ইত্যাদি) গিয়ে সরাসরি নোট বদলানো বা অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া সম্ভব। একবারে সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিময় করা যায়।

২. ইন্ডিয়া পোস্ট: যারা আরবিআই অফিসে যেতে পারবেন না, তারা নিকটস্থ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিমাকৃত পোস্ট পাঠাতে পারেন আরবিআই-এর ঠিকানায়। এই অর্থ সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র: খৈতান অ্যান্ড কোং-এর বিশেষজ্ঞ মনীষা শ্রফ জানিয়েছেন, নোট জমা দেওয়ার সময় আধার বা প্যান কার্ডের মতো কেওয়াইসি (KYC) নথি এবং অর্থের উৎসের প্রমাণ (যেমন বেতন স্লিপ বা আইটি রিটার্ন) কাছে রাখা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে আয়কর সংক্রান্ত কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হবে না।

সতর্কতা: বর্তমানে ৯৮% এরও বেশি নোট ব্যাংকে ফিরে এলেও প্রায় ৫,৬৬৯ কোটি টাকা এখনও জনসাধারণের কাছে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আজ যদি কেউ আপনাকে ২০০০ টাকার নোট দেয়, তবে তা গ্রহণ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আরবিআই এখনও কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা বা নোটটি পুরোপুরি বাতিলের দিন ঘোষণা না করলেও, যেকোনো সময় বড় ঘোষণা আসতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত এই নোটগুলি বদলে ফেলাই শ্রেয়।