মমতার হাতে ইডির বাজেয়াপ্ত ফোন! ৮ জানুয়ারির তল্লাশিতে ধুন্ধুমার কলকাতায়, এবার কী করবে কোর্ট?

২০২৬ সালের শুরুতেই বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার ও অর্থ পাচার মামলার তদন্তে নেমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের সরাসরি বিরোধিতার মুখে পড়তে হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কর্মকর্তাদের। ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খোদ অভিযুক্তের ফোন নিজের কবজায় নেন এবং তদন্তে নজিরবিহীন বাধা সৃষ্টি করেন।

ঠিক কী ঘটেছিল ৮ জানুয়ারি? ২০২০ সালে অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে সিবিআই-এর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ, কয়লা পাচার থেকে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ হাওলা মারফত আইপ্যাকের (IPAC) মতো সংস্থার কাছে পৌঁছেছে। গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি।

কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে পুলিশ কমিশনার ও পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেখানে পৌঁছান। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী জোরপূর্বক ইডির জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র ছিনিয়ে নেন। ইডি সূত্রের দাবি, খোদ রাজ্যের ডিজিপি তিন ইডি অফিসারকে হুমকি দেন যে, পঞ্চনামায় ‘কিছু উদ্ধার হয়নি’ না লিখলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। ইডির তিন আধিকারিকের বিপরীতে মুখ্যমন্ত্রী ও তার জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল উপস্থিতিতে এক ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ: সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তরেও একই দৃশ্য দেখা যায়। ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত শুরু হতেই রাজ্য পুলিশ বাধা দেয়। ইডির অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ, ইমেল ডেটা এবং হার্ড ড্রাইভ পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রমাণের শৃঙ্খল বা ‘চেইন অফ এভিডেন্স’ নষ্ট করে দিয়েছে।

আদালতের দ্বারস্থ ইডি: এই ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে ইডি। তাদের দাবি:

যেহেতু রাজ্য সরকার সরাসরি অভিযুক্ত, তাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্ত হোক।

ছিনতাই করা ফোন ও নথিপত্র অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।

ইডির কাজে বাধা দেওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হোক।

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। আইনের শাসন বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাত এখন কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।