জানুয়ারিতেই পরীক্ষা! সিলেবাস নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল বেসিক এডুকেশন কাউন্সিল

উত্তর প্রদেশের কাউন্সিল এবং স্বীকৃত স্কুলগুলিতে অধ্যয়নরত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। বেসিক এডুকেশন কাউন্সিল ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই পরীক্ষাগুলি আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। বেসিক এডুকেশন ডিরেক্টর ইতিমধ্যে রাজ্যের সমস্ত জেলা বেসিক এডুকেশন অফিসারদের (বিএসএ) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

স্কুল স্তরেই হবে পরীক্ষা পরিচালনা: জারি করা নির্দেশিকা অনুসারে, এই দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে স্কুল পর্যায়ে পরিচালিত হবে। কোনো বাইরের কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিজের স্কুলেই পরীক্ষা দিতে হবে। প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুলের অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষদের। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার স্তরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নপত্র নিশ্চিত করা।

সিলেবাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতি: শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ কমাতে পর্ষদ একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারের পরীক্ষায় শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সিলেবাস থেকেই প্রশ্ন করা হবে। ক্লাস-ভিত্তিক মাসিক সিলেবাস বিভাজনের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষক বা বিষয় শিক্ষকের ওপর। এতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত পারফরম্যান্স প্রতিফলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেকর্ড সংরক্ষণ ও খরচ: পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ড, যেমন উত্তরপত্র এবং নম্বর তালিকা, স্কুল পর্যায়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার প্রয়োজনে এগুলি ব্যবহৃত হবে। এছাড়া, পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ স্কুলগুলিকে দেওয়া ‘যৌগিক অনুদান’ (Composite Grant) থেকেই মেটাতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো ফাণ্ড বরাদ্দ করা হবে না।

অভিভাবকদের ভূমিকা ও বিশেষ ক্লাস: পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে পারবে না বা পিছিয়ে থাকবে, তাদের জন্য বিশেষ অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। পর্ষদের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।