আই-প্যাক অফিসে হানা দিতেই রণংদেহী মমতা! ইডির হাত থেকে ‘ফাইল’ বাঁচাতে কেন ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী?

কলকাতায় আই-প্যাক (I-PAC) দফতরে ইডির হানা এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। কয়লা পাচার মামলার সূত্রে ইডি যখন প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আই-প্যাক অফিস থেকে একাধিক ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। এই ঘটনা ঘিরেই এবার পাঁচটি তীক্ষ্ণ প্রশ্নে তৃণমূলকে কোণঠাসা করল বিজেপি।
বিজেপির প্রথম প্রশ্ন, সরকারি ফাইল আই-প্যাকের মতো একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসে কী করছিল? ভিডিও ফুটেজে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা ফাইলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। দ্বিতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন ২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা নিতে এসেছিল ইডি, অথচ ফাইলের গায়ে তারিখ রয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০২২। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চার বছর আগেই প্রার্থী তালিকা তৈরি? তৃতীয়ত, সরকারি নথি কেন তৃণমূলের দলীয় গাড়িতে বহন করা হলো, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
সবথেকে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে চতুর্থ প্রশ্নে— জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য কি তবে বেসরকারি সংস্থার হাতে? আই-প্যাকের কাছে সরকারি ফাইল থাকা মানে নাগরিকদের গোপনীয়তা বিপন্ন হওয়া বলে দাবি বিজেপির। শেষ এবং সবচেয়ে ‘বিস্ফোরক’ প্রশ্নটি হলো, অতীতে বড় বড় নেতাদের গ্রেফতারিতে মুখ্যমন্ত্রীকে পথে নামতে দেখা না গেলেও, একজন প্রতীক জৈনের জন্য তিনি কেন ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন? বিজেপির কটাক্ষ, “কয়লা ভাইপোর” কোনও বিশেষ তথ্য আড়াল করতেই কি এই তৎপরতা? এই বিতর্কে এখন উত্তাল গোটা বাংলা।