অর্জুনের জীবনে অভিশপ্ত এক বছর! অপরাজেয় বীর কেন হয়েছিলেন নপুংসক বৃহন্নলা?

মহাভারত কেবল কুরুক্ষেত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মহাকাব্য নয়, এটি অসংখ্য মানবিক আবেগ, ত্যাগ এবং অলৌকিক কাহিনীর সমাহার। এই মহাকাব্যের অন্যতম প্রধান নায়ক অর্জুন। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে অর্জুনকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর মনে করা হয়, তাঁকেও এক বছর নপুংসক বা হিজড়া হয়ে কাটাতে হয়েছিল? স্বর্গের এক অপ্সরার অভিশাপ কীভাবে অর্জুনের জীবনে এক চরম পরীক্ষা নিয়ে এসেছিল, সেই কাহিনী আজও বিস্ময় জাগায়।

ঘটনাটি ঘটেছিল পাণ্ডবদের বনবাসকালে। যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য অর্জুনের প্রয়োজন ছিল দিব্য অস্ত্রের। দেবরাজ ইন্দ্রের পরামর্শে তিনি কঠোর তপস্যা করে মহাদেবের কাছ থেকে ‘পাশুপত’ অস্ত্র লাভ করেন এবং ইন্দ্রের আমন্ত্রণে স্বর্গে গমন করেন। সেখানে ইন্দ্র তাঁকে বহু ঐশ্বরিক অস্ত্র প্রদান করেন। কিন্তু সেই স্বর্গবাসের সময়ই ঘটে এক অনভিপ্রেত ঘটনা। অর্জুনের রূপ ও বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অপ্সরা উর্বশী তাঁর প্রতি কামাসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি অর্জুনকে প্রেম নিবেদন করেন। কিন্তু অর্জুন উর্বশীকে কুন্তীর মতো মাতৃজ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন, তাই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

নিজের রূপের দম্ভে আঘাত পেয়ে ক্রোধে ফেটে পড়েন উর্বশী। তিনি অর্জুনকে অভিশাপ দেন যে, তাঁকে এক বছর পুরুষত্বহীন নপুংসক হিসেবে জীবন কাটাতে হবে। এই অভিশাপে অর্জুন বিচলিত হয়ে পড়লেও দেবরাজ ইন্দ্র তাঁকে আশ্বস্ত করেন। ইন্দ্র জানান, এই অভিশাপই পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় ছদ্মবেশ ধারণে সাহায্য করবে। পরবর্তীতে বিরাট রাজার প্রাসাদে অর্জুন ‘বৃহন্নলা’ নাম ধারণ করে রাজকন্যা উত্তরাকে নৃত্য ও গীত শিক্ষা দিয়েছিলেন। এই ছদ্মবেশই কৌরবদের চোখে ধুলো দিতে পাণ্ডবদের পরম সহায় হয়েছিল।