“মসজিদ শিক্ষকই ছিল খুনের মাস্টারমাইন্ড?”-দীপু দাসের বীভৎস হত্যাকাণ্ডে পর্দাফাঁস করল পুলিশ

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের সেই শিউরে ওঠা হিন্দু যুবক দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ইয়াসিন আরাফাতকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল বাংলাদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই নিয়ে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করল প্রশাসন।
সেই কালরাতের মূল পাণ্ডা ইয়াসিন: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়াসিন আরাফাত কেবল ষড়যন্ত্রীই ছিল না, সে নিজে উপস্থিত থেকে দীপু দাসের বিরুদ্ধে উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ইয়াসিনই দীপুকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে আনে এবং গণপিটুনির নেতৃত্ব দেয়। এরপর আধমরা দীপুকে চৌরাস্তা পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়ে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেয় এই ইয়াসিন। সেখানেই পৈশাচিক উল্লাসে তাঁকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ইয়াসিন ওই এলাকারই বাসিন্দা এবং একটি মসজিদে শিক্ষকতা করত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ: ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলা ধারাবাহিক নির্যাতনের মধ্যে দীপু দাসের ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে নারকীয়। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের একটি কাপড় কারখানায় ‘ধর্ম অবমাননার’ ভিত্তিহীন অভিযোগে দীপুকে টার্গেট করা হয়। বাংলাদেশের ছাত্রনেতা উসমান হাদির মৃত্যুর পর যে ভারত-বিরোধী ও হিন্দু-বিদ্বেষী হাওয়া তৈরি হয়েছিল, দীপু দাসকে তারই বলি হতে হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া: এই নৃশংস ঘটনার পর গর্জে উঠেছিল কলকাতা থেকে দিল্লি। ভারতের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, দীপুর অসহায় পরিবারকে প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্য পাঠাবে বিজেপি। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইয়াসিন আরাফাতের গ্রেপ্তারি সেই বিচার প্রক্রিয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় হিন্দুদের মনে এখনও আতঙ্কের রেশ কাটেনি।