পারফর্ম্যান্স আরও ভাল করতে হোটেলে ডেকে শুটারকে ধর্ষণ, গ্রেফতার কোচ

ভারতীয় ক্রীড়াজগতে ফের কালিমালিপ্ত হওয়ার ঘটনা। এক ১৭ বছর বয়সী জাতীয় স্তরের নাবালিকা শুটারকে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে। কাঠগড়ায় খোদ জাতীয় স্তরের পিস্তল কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজ। দিল্লির কর্নি সিং শুটিং রেঞ্জে প্রতিযোগিতা চলাকালীন এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্য়েই অভিযুক্ত কোচকে আটক করা হয়েছে এবং ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI) তাঁকে কোচের পদ থেকে সাসপেন্ড করেছে।
পারফরম্যান্সের টোপ দিয়ে লালসা নির্যাতিতা কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে একটি শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রতিযোগিতার শেষে কোচ অঙ্কুশ তাকে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অজুহাতে ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড এলাকার একটি হোটেলে দেখা করতে বলেন। প্রথমে লবিতে দেখা করার কথা থাকলেও, পরে জোরজবরদস্তি কিশোরীকে হোটেলের রুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
কেরিয়ার নষ্টের হুমকি ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। যৌন হেনস্থার পর নাবালিকাকে মুখ না খুলতে চাপ দেন অঙ্কুশ। কিশোরীর কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার এবং তার পরিবারের বড়সড় ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে কয়েকদিন চুপ থাকলেও, শেষমেশ পরিবারকে সব জানায় ওই কিশোরী। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই ফরিদাবাদ পুলিশ পকসো (POCSO) আইনের অধীনে মামলা রুজু করেছে।
তদন্তে পুলিশ ও ক্রীড়া মহল ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র যশপাল সিং জানিয়েছেন, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কিশোরীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের ১৩ জন জাতীয় স্তরের পিস্তল কোচের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অঙ্কুশ ভরদ্বাজ। এমন হাই-প্রোফাইল কোচের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে স্তম্ভিত ক্রীড়া মহল। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া স্পষ্ট করেছে যে, এই ধরনের অপরাধে কোনো আপস করা হবে না এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্কুশ সাসপেন্ড থাকবেন।