শান্তিপুরে সরস্বতীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ধর্মীয় যোগ নেই, জানালো পুলিশ

সরস্বতী পুজোর মুখে রণক্ষেত্র নদিয়ার শান্তিপুর। মঙ্গলবার রাতে এক মৃৎশিল্পীর ওয়ার্কশপে ঢুকে একের পর এক দেব-দেবীর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, ঠিক তখনই বড়সড় বয়ান দিল পুলিশ। ঘটনার পেছনে কোনো ‘ধর্মীয়’ বা ‘রাজনৈতিক’ অভিসন্ধি নেই বলেই সাফ জানিয়ে দিল প্রশাসন।

ঘটনার সূত্রপাত: রাতের অন্ধকারে তাণ্ডব

মঙ্গলবার গভীর রাতে শান্তিপুর থানা এলাকার সর্বানন্দী পাড়ায় লোকনাথ মন্দিরের পাশে ঘটে এই ঘটনা। মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের ওয়ার্কশপে ঢুকে দুই দুষ্কৃতী প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল আসন্ন পুজোর সরস্বতী ও কালীমূর্তি। সকালে এই ধ্বংসলীলা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাজনৈতিক মহলে তরজা

ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে ভাঙা মূর্তির ছবি পোস্ট করে তিনি একে ‘হিন্দু বিদ্বেষের সাম্প্রতিক উদাহরণ’ বলে দাবি করেন। বিরেধীদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে।

পুলিশি তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ

পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। রানাঘাট পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার লাল্টু হালদার জানিয়েছেন, ফুটেজে অমিত দাস ও তাঁর ভাই অসিত দাস নামে দুই যুবককে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে:

  • অভিযুক্তদের সঙ্গে ঘটনার আগের দিন মৃৎশিল্পী জয়ন্ত দাসের কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

  • সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই মদ্যপ অবস্থায় তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও এলাকায় অভব্য আচরণের রেকর্ড রয়েছে।

পুলিশের স্পষ্ট বার্তা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাল্টু হালদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক যোগ নেই। এটি পুরোপুরি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের জের।” বর্তমানে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের খোঁজ চালাচ্ছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

সরস্বতী পুজোর ঠিক আগে এই ঘটনায় মৃৎশিল্পীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে।