চিকিৎসকরা বলেছিলেন আয়ু শেষ, সেই মরণব্যাধি জয় করেই দণ্ডি কেটে আদিযোগীর পথে বর্ধমানের দীপ!

ছিপছিপে শরীর, কিন্তু পাহাড় প্রমাণ মনের জোর। চিকিৎসকরা যখন একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন আয়ু আর মাত্র কয়েক বছর, ঠিক তখনই আধ্যাত্মিক চেতনার হাত ধরে নতুন জীবন ফিরে পান পূর্ব বর্ধমানের দীপ বাগ। সেই কৃতজ্ঞতা আর ভক্তিকে সঙ্গী করেই এখন তিনি পাড়ি দিচ্ছেন এক অবিশ্বাস্য পথ। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে নয়, দীপ নিজের বাড়ি থেকে দণ্ডি কাটতে কাটতে আদিযোগীর (কোয়েম্বাটুর) উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।
ইতিমধ্যেই এই দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য সফরের ৫-৬ মাস অতিক্রান্ত। পূর্ব বর্ধমান থেকে শুরু করে দীপ এখন পৌঁছেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে। প্রায় শূন্য হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি, পথে পথে স্থানীয় মানুষের সাহায্য আর ভালোবাসাই তাঁর একমাত্র পাথেয়। দণ্ডি কাটার মতো অত্যন্ত কঠিন শারীরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি প্রতিদিন মাইল মাইল পথ অতিক্রম করছেন। গত মঙ্গলবার নারায়ণগড়ে পৌঁছলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ফুল ও মালা দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
দীপের জীবনের লড়াইটা আরও চমকপ্রদ। ছোটবেলায় তিনি এক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর থেকেই তাঁর মহাদেবের প্রতি অটুট বিশ্বাস তৈরি হয়। এর আগে ২০২৩ সালে তিনি একইভাবে কেদারনাথ যাত্রা সম্পন্ন করেছিলেন। দীপ জানান, “শরীরের কষ্ট বড় নয়, আদিযোগীর চরণে পৌঁছানোটাই আমার মূল লক্ষ্য।” তাঁর বাবা পেশায় একজন সাধারণ চাষি। সাধারণ পরিবারের এই যুবকের এমন অসাধারণ সংকল্প আজ হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। যত দিনই লাগুক না কেন, দণ্ডি কেটে আদিযোগীর দরবারে পৌঁছতে বদ্ধপরিকর এই আধুনিক ‘নচিকেতা’।