কেএল রাহুল-আথিয়া শেট্টির নামে ভুয়ো প্রজেক্ট! খোদ নিজেদের সংস্থাকেই কোটি টাকার চুনকালি ৩ কর্মীর

মুম্বইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ার আড়ালে খোদ বিজ্ঞাপন সংস্থার অন্দরেই চলত এক বিশাল প্রতারণার কারবার। ক্রিকেটার কেএল রাহুল, অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টি এবং আরশাদ ওয়ারসির মতো হাই-প্রোফাইল তারকাদের নাম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্থাকেই ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার চুনকাম করল তিন কর্মী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকার একটি স্বনামধন্য বিজ্ঞাপন ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সিতে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত তিন কর্মী—ঋষভ সুরেখা, যশ নাগরকোটি এবং আশয় শাস্ত্রী—অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতির ছক কষেছিলেন। তাঁরা তারকাদের ভুয়ো ইমেল আইডি তৈরি করা থেকে শুরু করে তাঁদের সই পর্যন্ত নকল করতেন। সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাস করানোর জন্য তৈরি করা হত জাল ইনভয়েস। যাতে কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে প্রজেক্টগুলি আসল এবং সেই অনুযায়ী টাকা মঞ্জুর করে দেন।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মূল পান্ডা ঋষভ সুরেখা ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে সংস্থায় যোগ দেন। ব্র্যান্ডিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়েই তিনি এই জালিয়াতি শুরু করেন। এমনকি বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে নিজের মায়ের চিকিৎসার অজুহাতে ১৫ লক্ষ টাকার সুদহীন ঋণও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অডিট রিপোর্টে দেখা গেছে, বিভিন্ন ভুয়ো প্রজেক্টের নাম করে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা সরাসরি ঋষভের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।

২০২৪ সালের অগস্টে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার একটি বিজ্ঞাপনের ডিল নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ দানা বাঁধে। ডিলের অংকের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই বেরিয়ে আসে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। দেখা যায়, আরশাদ ওয়ারসি এবং আথিয়া শেট্টির নাম ব্যবহার করে একাধিক কাল্পনিক প্রজেক্ট দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্ধেরি থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩১৮(৪) ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা হলেও অভিযুক্তরা আপাতত অধরা।