ভোররাতে তীব্র কম্পনে ঘুম ভাঙল বাংলার! অসমে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ

ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর ৪টে ১৭ মিনিট। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। ঠিক সেই মুহূর্তেই জোরালো কম্পনে কেঁপে উঠল মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে অসমের মরিগাঁও জেলাকে কেন্দ্র করে ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে মাটির ৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎসস্থল।

তীব্র আতঙ্ক ও জনজীবন: ভোরের আলো ফোটার আগেই এই কম্পনে অসমের কামরূপ, নগাঁও, কার্বি আংলং, জোরহাট এবং ডিব্রুগড়-সহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে মানুষ ঘুম ভেঙে ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। অসমের পাশাপাশি মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের মতো উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও ভুটানেও অনুভূত হয়েছে এর রেশ।

পরপর কম্পন: মরিগাঁওয়ে বড় কম্পনটির আগে ভোর ৩টে ৩৩ মিনিটে ত্রিপুরাতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে গোমতী জেলার সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৯। পরপর দু’বার মাটি কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড়সড় বিপর্যয়ের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি বা বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রতিটি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: ভূবিজ্ঞানীদের মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকা উচ্চ সিসমিক জোনের অন্তর্গত। মাঝেমধ্যেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন বড় কোনও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বদা সতর্ক থাকার এবং ভূমিকম্প চলাকালীন সুরক্ষা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।