মধ্যরাতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রক্তারক্তি! দক্ষিণ কোরীয় প্রেমিককে কেন বুক চিরে দিল মণিপুরী তরুণী?

উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি বিলাসবহুল আবাসন থেকে উদ্ধার হল এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের রক্তাক্ত দেহ। লিভ-ইন পার্টনারকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মণিপুরের এক তরুণীকে। মদ্যপানের আসরে বচসা এবং তার থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের নাম ডাক হি ইউ (Dak Hi Yu)। তিনি একটি স্বনামধন্য মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থায় শাখা ব্যবস্থাপক (Branch Manager) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত তরুণীর নাম লুঞ্জেয়ানা পামাই, যিনি মণিপুরের বাসিন্দা। গত ৪ জানুয়ারি ভোররাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ডাক হি ইউ-কে নয়ডার জিআইএমএস (GIMS) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার নেপথ্যে কী? তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ওই যুগল গত দুই বছর ধরে গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ঘটনার রাতে দুজনেই মদ্যপান করছিলেন। গভীর রাতে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। বচসা চলাকালীন তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির সময় রাগের মাথায় রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে প্রেমিকের বুকে বসিয়ে দেন লুঞ্জেয়ানা। ক্ষত গভীর হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই বিদেশি যুবক।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য: গ্রেপ্তার হওয়ার পর লুঞ্জেয়ানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই তিক্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ডাক হি ইউ মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করতেন এবং মত্ত অবস্থায় প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। ঘটনার রাতেও মারধর থেকে বাঁচতে এবং আত্মরক্ষার খাতিরেই তিনি পাল্টা আক্রমণ করেন বলে দাবি করেছেন তরুণী। তবে পুলিশ এই দাবি খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অভিযুক্ত নিজেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সে সময় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের তরফে মেমো পাঠানোর পর পুলিশি জেরার মুখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং অপরাধ স্বীকার করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত তরুণী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। বিদেশি নাগরিকের পরিবার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে খবর পাঠানো হয়েছে। নলেজ পার্ক থানায় খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।