আকাশে রুপোলি জয়ন্তী তেজসের! ২০৪৭ সালের মধ্যে মহাশক্তিশালী হচ্ছে বায়ুসেনা, মোদি সরকারের মাস্টারপ্ল্যান কী?

ভারতের সামরিক শক্তির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান (LCA) তেজস। প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন থেকে শুরু করে বর্তমানের অত্যাধুনিক সংস্করণ— তেজস আজ ভারতীয় বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। এই ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০৪৭ সালের প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তির কাতারে নিয়ে যাবে।

এআই (AI) এবং ড্রোন প্রযুক্তির সংমিশ্রণ ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে প্রযুক্তির। তাই ২০৪৭ সালের রোডম্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানগুলোতে এখন এমন এআই সিস্টেম যুক্ত করা হচ্ছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুর টার্গেট শনাক্ত করতে এবং পাইলটকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এছাড়া ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ (Swarm Drones) বা ড্রোনের ঝাঁক তৈরি করা হচ্ছে, যা একসঙ্গে শত শত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

দেশীয় প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা তেজস মার্ক-১এ এবং পরবর্তী প্রজন্মের মার্ক-২ সংস্করণের মাধ্যমে ভারত আমদানিকৃত যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে। তেজসের এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই পঞ্চমবারের প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘এমকা’ (AMCA) তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত কেবল নিজের প্রয়োজন মেটাবে না, বরং বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে।

অ্যান্টি-ড্রোন এবং সাইবার নিরাপত্তা সীমান্তে ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ভারত এখন নিজস্ব অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম তৈরি করেছে। লেজার-নির্ভর এই প্রযুক্তি আকাশপথের যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখে দিতে সক্ষম। পাশাপাশি সামরিক তথ্যের সুরক্ষায় সাইবার ডিফেন্স সেক্টরকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ২৫ বছর আগে তেজস যে যাত্রার শুরু করেছিল, ২০৪৭ সালে তা এক স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অপরাজেয় ভারতের রূপ নেবে।