নারীর ক্ষমতায়নে যোগী ম্যাজিক! উত্তরপ্রদেশের ‘সফল মডেল’ এখন সারা দেশের অনুপ্রেরণা।

উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের নারী কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি আজ সারা দেশের সামনে সাফল্যের এক শক্তিশালী নজির পেশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক বছরে রাজ্যের নারী, কিশোরী এবং কন্যাশিশুদের জীবনযাত্রায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তা পরিসংখ্যান এবং বাস্তব—উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট। আজ উত্তরপ্রদেশে নারীর উন্নয়ন কেবল সরকারি নথিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা নিরাপত্তা, আত্মসম্মান এবং সমান অধিকারের এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে।

কন্যা সুমঙ্গলা ও বেটি বাঁচাও প্রকল্পের সাফল্য যোগী সরকারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ‘কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা’। চলতি বছরেই ৩.২৮ লক্ষ কন্যাশিশু এই প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সুবিধা পেয়েছে, যার জন্য ১৩০.০৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জন্ম থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ছয়টি ধাপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এই প্রকল্প মেয়েদের নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। একইভাবে, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ অভিযানের মাধ্যমে এ বছর প্রায় ২৫.৫ লক্ষ নারী ও শিশুকে সচেতন করা হয়েছে, যা কন্যাভ্রূণ হত্যা রোধ এবং লিঙ্গ অনুপাত উন্নত করতে সহায়ক হয়েছে।

দুস্থ নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিঃস্ব ও বিধবা মহিলাদের জন্য যোগী সরকার এক নির্ভরযোগ্য সহায়। বর্তমানে প্রায় ৩৮.৫৮ লক্ষ মহিলা নিয়মিত মাসিক পেনশন পাচ্ছেন। এই খাতে সরকার এ বছর প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, রানি লক্ষ্মীবাই সম্মান তহবিলের মাধ্যমে ৩,৫১৯ জন নিগৃহীতাকে ১১৬.৩৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

মিশন শক্তি ও দ্রুত বিচার নারীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যোগী সরকারের ‘মিশন শক্তি’ এখন পঞ্চম পর্যায়ে রয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৯ কোটি মানুষের কাছে নারী সুরক্ষা ও আইন বিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতা নারীদের একই ছাদের নিচে চিকিৎসা, আইনি ও পুলিশি সহায়তা দিতে রাজ্যে ৭৫টিরও বেশি ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ কাজ করছে। এ বছর প্রায় ২৪,৬৭১ জন মহিলা এখান থেকে তাৎক্ষণিক সাহায্য পেয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টার ‘১৮১ হেল্পলাইন’ নম্বরটি এখন রাজ্যের মহিলাদের কাছে সবথেকে ভরসার নাম।

নিরাপদ আবাসন ও স্বনির্ভরতা কর্মজীবী ও দুস্থ মহিলাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য যোগী সরকার লখনউ, গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগরে একাধিক আধুনিক হোস্টেল তৈরি করছে। ‘মাতা অহল্যাবাই হোলকার’ প্রকল্পের অধীনে ৫০০ জন ধারণক্ষমতার হোস্টেল নির্মাণের কাজ চলছে। মথুরার ‘কৃষ্ণ কুটির’ আজ ১,০০০ নিঃস্ব মহিলার নিরাপদ ঠিকানা। সব মিলিয়ে, যোগী আদিত্যনাথের শাসনকালে উত্তরপ্রদেশ আজ নারীর সুরক্ষা ও সম্মানের এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01