৩ দিনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পিএফের টাকা! ইউএএন থাকলে ঘরে বসেই করুন ক্লেম, জানুন পদ্ধতি।

বেকারত্বের কঠিন সময়ে সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) হলো সবচেয়ে বড় ভরসা। সেই ভরসাকে আরও মজবুত করতে এবং টাকা তোলার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া ঘোষিত “EPFO 3.0” উদ্যোগের অধীনে ডিজিটাল দাবি নিষ্পত্তি এখন আরও সহজ ও ফাস্ট হতে চলেছে।

তৎক্ষণাৎ পাবেন ৭৫% টাকা: আগের তুলনায় এখন পিএফ তোলা অনেক সহজ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হঠাৎ চাকরি হারালে আপনি আপনার সঞ্চিত পিএফ ব্যালেন্সের ৭৫% পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে তুলতে পারবেন। এর মধ্যে আপনার এবং নিয়োগকর্তার অবদান এবং অর্জিত সুদ—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। তবে বাকি ২৫% টাকা পেতে আপনাকে ১২ মাস বেকার থাকার প্রমাণ দিতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, অবসরের জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে অন্তত কিছু টাকা যেন অবশিষ্ট থাকে।

পেনশনের নিয়মে কড়াকড়ি: পিএফ তোলা সহজ হলেও, পেনশন বা ইপিএস (EPS) তোলার নিয়ম কিছুটা কঠোর করা হয়েছে। আগে মাত্র ২ মাস বেকার থাকলেই পেনশনের টাকা তোলা যেত, কিন্তু এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৬ মাস বা ৩ বছর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃদ্ধ বয়সে কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইপিএফও। এছাড়া প্রত্যাহারের ক্যাটাগরিগুলিকে কমিয়ে মাত্র তিনটিতে (অপরিহার্য চাহিদা, আবাসন এবং বিশেষ পরিস্থিতি) আনা হয়েছে।

কিভাবে অনলাইনে ক্লেম করবেন? আপনার যদি UAN এবং KYC সম্পূর্ণ থাকে, তবে মাত্র ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।

  • প্রথমে EPFO-এর ইউনিফাইড পোর্টালে UAN এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করুন।

  • ‘Online Services’ ট্যাবে গিয়ে ‘Claim (Form-31)’ অপশনটি বেছে নিন।

  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শেষ ৪টি সংখ্যা দিয়ে ভেরিফাই করুন।

  • কারণ হিসেবে ‘Unemployment’ সিলেক্ট করে প্রয়োজনীয় পরিমাণ লিখুন।

  • আধার ওটিপি (OTP) দিয়ে ফর্মটি সাবমিট করুন। মনে রাখবেন, ৫ বছরের কম চাকরি হলে TDS এড়াতে ফর্ম 15G/15H জমা দেওয়া জরুরি।