বোর্ড পরীক্ষার আগে বাচ্চার ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ নয়, বরং হয়ে উঠুন তার সেরা বন্ধু! কীভাবে? পড়ুন বিস্তারিত।

ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরু থেকেই সাধারণত বোর্ড পরীক্ষা শুরু হয়। এই সময়টি ছাত্রছাত্রীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই উৎকণ্ঠার। প্রতিটি বাবা-মা চান সন্তান ভালো ফল করুক, কিন্তু অনেক সময় অতি-সতর্কতা বা প্রত্যাশার চাপে আমরা এমন কিছু ভুল করে ফেলি, যা বাচ্চার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। জেনে নিন বোর্ড পরীক্ষার সময় অভিভাবকদের কোন ৪টি ভুল এড়িয়ে চলা উচিত।

১. অতিরিক্ত বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া: পরীক্ষা মানেই কি খেলাধুলা বা টিভি বন্ধ? বাবা-মায়েরা প্রায়ই বাচ্চার ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেন। সবসময় গ্রেড বা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে কথা বললে বাচ্চার মনে ভীতি তৈরি হয়। এই মানসিক চাপে তারা যা শিখেছে তা-ও ভুলে যেতে পারে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত চাপ অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

২. অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা: “অমুকের ছেলে এত রাত পর্যন্ত পড়ছে, তুমি কেন পড়ছ না?”—এই ধরনের তুলনা শিশুর মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করে। প্রতিটি শিশুর শেখার গতি এবং ক্ষমতা আলাদা। তুলনা করে রাগ বা জেদ না বাড়িয়ে, সফল ব্যক্তিদের গল্প শুনিয়ে তাদের অনুপ্রাণিত করুন।

৩. বিশ্রাম ও ঘুমকে অবহেলা করা: টানা পড়াশোনা করলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক ভাবেন কম ঘুমালে বেশি পড়া হবে, যা সম্পূর্ণ ভুল। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। নিশ্চিত করুন আপনার সন্তান যেন অন্তত ৭ ঘণ্টা শান্তিতে ঘুমায়। পড়াশোনার মাঝে ছোট বিরতি নিলে পড়া মনে রাখা সহজ হয়।

৪. সঠিক পুষ্টির অভাব: পরীক্ষার সময় টেনশনে বাচ্চাদের খিদে কমে যায় বা তারা না খেয়ে দীর্ঘক্ষণ পড়ে। পুষ্টির অভাবে এই সময় বাচ্চারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়ার টেবিলে মাঝেমধ্যে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার (যেমন ফল বা বাদাম) দিন। তাদের খাদ্যাভ্যাসের রুটিন ঠিক থাকলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় থাকবে।