এক সাংসদ পরিবারের ৪ সদস্যকে তলব! বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তুলকালাম, বিপাকে সাধারণ মানুষ?

পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া শুরু হতেই চরম বিশৃঙ্খলা সামনে এল। বারাসতের তৃণমূল সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দুই ছেলেকে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। শুধু ছেলেরা নয়, সাংসদের মা এবং বোনকেও বিডিও অফিসে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকায় নাম না থাকাতেই এই তলব, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
সাংসদ পরিবারের ক্ষোভ: টানা চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার স্বামী প্রাক্তন মন্ত্রী, আমি চারবারের সাংসদ এবং আমার দুই ছেলেই সরকারি চাকুরিজীবী। যদি আমাদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং শুনানিতে ডাকা হয়, তবে সাধারণ মানুষের কী দশা হবে?” তিনি অভিযোগ করেন, দূর-দূরান্তের সাধারণ মানুষ এই জটিল প্রক্রিয়ার কথা বুঝতেই পারছেন না, ফলে তাঁদের নাম জোর করে মুছে দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বিপাকে শাসক দলের নেতারাও: ভোটার তালিকায় এই অসঙ্গতি কেবল সাংসদ পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। খণ্ডঘোষের তৃণমূল বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগের মা, ভাই ও শ্যালককেও শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সবথেকে অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ডানকুনিতে, সেখানে তৃণমূল কাউন্সিলর সূর্য দে-র নামের পাশে ‘মৃত’ তকমা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পরিবার ও মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামেও বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা গেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের নীরবতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই এই SIR প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, কেন দু-বছরের কাজ মাত্র দু-মাসে শেষ করার জন্য এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে? এই দ্রুত প্রক্রিয়ার ফলেই একের পর এক ভুল সামনে আসছে বলে তাঁদের দাবি। তবে একজন সাংসদ পরিবারের সদস্যদের নাম কেন বাদ গেল, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।