২০২৫-এর ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর আসল হিরো কি আদিত্য ধর? অভিনেতা নবীন কৌশিকের আবেগঘন পোস্টে তোলপাড়।

বক্স অফিসে এখন তুফান তুলছে রণবীর সিং অভিনীত ছবি ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির ২২ দিন পরেও আয়ের গ্রাফ নিম্নমুখী নয়, বরং ভিকি কৌশলের ‘চাভা’-কে ছাপিয়ে এটি ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি হয়ে উঠেছে। ছবিতে রণবীর সিংয়ের দাপট থাকলেও, রেহমান ডাকাতের ডান হাত ‘ডোঙ্গা’ চরিত্রটি রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছে অভিনেতা নবীন কৌশিক-কে। কিন্তু সাফল্যের এই রূপকথার পেছনে লুকিয়ে আছে এক যন্ত্রণাদায়ক লড়াইয়ের গল্প।
হতাশার অন্ধকারে ডুবেছিলেন নবীন: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে নবীন প্রকাশ করেছেন যে, ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার আগে তিনি অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বারবার প্রত্যাখ্যান, অডিশন দিয়েও ডাক না পাওয়া এবং নেটওয়ার্কিংয়ের জটিলতায় তিনি নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। নবীন লেখেন, “অসংখ্য রিজেকশন একজন অভিনেতার আত্মবিশ্বাসকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। আমি ধরে নিয়েছিলাম চলচ্চিত্র জগতে আমার কোনো জায়গা নেই।”
আদিত্য ধরের সেই জাদুকরী ফোন: ঠিক যখন নবীন সবকিছু ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরার জোরাজুরিতে তিনি দেখা করেন পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে। নবীন জানান, সেই দিনটিই তাঁর জীবন বদলে দেয়। আদিত্য ধরের অগাধ বিশ্বাসই তাঁকে নতুন করে কাজ করার শক্তি জোগায়। অভিনেতা আদিত্যকে ‘নৌকার মাঝি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দেড় বছরের দীর্ঘ শুটিং এবং নানা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও পরিচালক সবাইকে আগলে রেখেছিলেন।
২০২৫-এর সুপারহিট সফর: ২০২৫-এর বিনোদন জগতের সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখন সাফল্যের শিখরে। ছবিতে কুমার শানু ও অলকা ইয়াগনিকের গাওয়া গানটিও মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। নবীনের কথায়, “ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার আগে এটি ছিল আমার শেষ আশা।” আজ সেই আশাই তাঁকে খলনায়ক হিসেবে ঘরে ঘরে পরিচিতি দিয়েছে। রণবীরের বিপরীতে নবীনের অভিনয় এখন সমালোচক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক—সবারই প্রশংসা কুড়াচ্ছে।