২০ দফার শান্তি প্রস্তাব কি আস্তাকুঁড়ে যাবে? ট্রাম্পের বাঁকা কথায় রাতের ঘুম উড়ল ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভাগ্য কি এবার হোয়াইট হাউসের ড্রয়িং রুমে নির্ধারিত হতে চলেছে? আসন্ন উইকএন্ডের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের আগে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে কড়া ভাষায় নিজের ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সমর্থন ছাড়া জেলেনস্কির কোনো একক অস্তিত্ব বা প্রভাব নেই। ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাপুটে মন্তব্য, “আমি সবুজ সঙ্কেত না দেওয়া পর্যন্ত জেলেনস্কির হাতে কিছুই নেই। তাই তিনি কী নিয়ে আসছেন, সেটা আমাদের আগে দেখতে হবে।”
জেলেনস্কির ২০ দফার মাস্টারপ্ল্যান: ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা জেলেনস্কির। সেখানে তিনি একটি নতুন ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা পেশ করবেন বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনায় একটি অসামরিক অঞ্চল (Demilitarized Zone) গঠন এবং ইউক্রেনের জন্য আমেরিকার বিশেষ নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তাঁর শান্তি প্রস্তাব ৯০% প্রস্তুত। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা এখানে কেবল একজন সহযোগী নয়, বরং ‘চূড়ান্ত বিচারক’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
পুতিনের সঙ্গেও আলোচনার ইঙ্গিত: ট্রাম্প কেবল জেলেনস্কিকে নিয়েই থেমে থাকেননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তাঁর খুব শীঘ্রই কথা হতে পারে। ট্রাম্পের কথায়, “আমার মনে হয় জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা ভালো হবে। তবে পুতিনের সঙ্গেও আমার আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প একই সঙ্গে দুই পক্ষকে চাপে রেখে যুদ্ধের রাশ নিজের হাতে নিতে চাইছেন।
নাইজেরিয়া হামলা ও ট্রাম্পের রণকৌশল: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় আইএসআইএস আস্তানায় মার্কিন বিমান হামলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি জানান, খ্রিস্টানদের হত্যার বদলা নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই হামলা একদিন পিছিয়ে দিয়েছিলেন কেবল একটি ‘প্রতীকী’ বার্তা দেওয়ার জন্য। এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং নিজস্ব কৌশলে চাল দিতে অভ্যস্ত। এখন দেখার বিষয়, জেলেনস্কির ২০ দফার শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্পের মন জয় করতে পারে কি না।