বিদেশে হিন্দু দেবতার চরম অপমান! ভারত গর্জে উঠতেই থরথর করে কাঁপছে দুই দেশ, কী ঘটতে চলেছে এবার?

থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া—দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতের বলি এবার হিন্দু ধর্মীয় আবেগ। দুই দেশের জমি দখলের লড়াইয়ের মাঝে টার্গেট করা হয়েছে সনাতনীদের আরাধ্য দেবতাকে। দীর্ঘদিনের এলাকা দখলের বিবাদে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভগবান বিষ্ণুর ৩০ ফুট উঁচু একটি বিশাল প্রতিমা। আর এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: সূত্রের খবর, গত সোমবার অর্থাৎ ২২ ডিসেম্বর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের একটি বিতর্কিত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী কম্বোডিয়া সীমান্ত লাগোয়া ওই অঞ্চলে প্রবেশ করে হিন্দু দেবতার মূর্তিটি ধ্বংস করে দেয়। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কম্বোডীয় সেনাবাহিনী উবো কি প্রদেশের চং আন মা এলাকায় এই মূর্তিটি স্থাপন করেছিল। থাইল্যান্ডের দাবি, ওই জমি তাদের সার্বভৌমত্বের অংশ। তাই জমি পুনরুদ্ধারের পর নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে তারা ওই মূর্তিটি ধ্বংস করার পথ বেছে নেয়।
ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবতারা সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে পূজিত হন। এটি আমাদের যৌথ সভ্যতার অংশ। কোনো আঞ্চলিক দাবি মেটানোর জন্য ধর্মীয় আবেগে আঘাত দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অপমানজনক কাজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে আঘাত দিয়েছে। ভারত অবিলম্বে দুই দেশকেই কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে।
সীমান্তে যুদ্ধের আবহ: প্রিহি বিহার মন্দির সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গত ৬ মাস ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একবার যুদ্ধবিরতি হলেও, ডিসেম্বর মাসে তা ফের চরম আকার নেয়। এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। তবে ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং জমি দখলের অহংবোধ থেকেই এই প্রতিমা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে কড়া বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সনাতন সংস্কৃতির অবমাননা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।