৫ কিমি উপর থেকে লক্ষ্যভেদ! ৩০০-র বেশি বিরল পরিযায়ী পাখির ভিড়ে সরগরম গোল্ডেন সিটি

শীতের পরশ লাগতেই রাজস্থানের সোনালী শহর জয়সলমীরে ডানা মেলল প্রকৃতির ‘কালো সম্রাটরা’। মধ্য এশিয়ার হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে থর মরুভূমির কোলে আস্তানা গেড়েছে বিরল প্রজাতির সিনেরিয়াস এবং ইউরেশিয়ান শকুন। তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের তুষারাবৃত পাহাড় ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে আসা এই পাখিদের কলতানে এখন মুখরিত রাজস্থানের আকাশ।
কেন হঠাৎ জয়সলমীরে ভিড়? পরিবেশবিদদের মতে, জয়সলমীরের উন্মুক্ত প্রান্তর এবং মানুষের ন্যূনতম হস্তক্ষেপ এই অঞ্চলটিকে পরিযায়ী পাখিদের জন্য স্বর্গরাজ্য করে তুলেছে। বন্যপ্রাণী প্রেমী সুমের সিং সাওয়ান্তা জানান, এই প্রথমবার জয়সলমীরের ‘ডেগরাই বনে’ একসাথে ৩০০-র বেশি শকুন দেখা গেছে। এই ঘটনা পরিবেশবিদদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছে কারণ ভারতে গত কয়েক দশকে শকুনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছিল।
আকাশের দানব: সিনেরিয়াস শকুন ‘মঙ্ক ভলচার’ বা ‘ব্ল্যাক ভলচার’ নামে পরিচিত এই সিনেরিয়াস শকুনদের ডানা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আকাশে ওড়ার সময় এদের ছোটখাটো কোনো গ্লাইডারের মতো দেখায়। এদের শক্তিশালী ঠোঁট মৃত পশুর শক্ত চামড়াও অনায়াসে ছিঁড়ে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইউরেশিয়ান গ্রিফনরা অত্যন্ত সামাজিক। এরা সাধারণত বড় দলে ঘোরাফেরা করে এবং ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার উচ্চতা থেকেও মাটিতে পড়ে থাকা খাবার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।
পরিবেশের রক্ষাকর্তা শকুনকে বলা হয় ‘প্রকৃতির মেথর’। মৃত পশুর দেহাবশেষ খেয়ে এরা সংক্রামক ব্যাধি ও মহামারীর হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) সিনেরিয়াস শকুনকে ‘নিকট হুমকি’ (Near Threatened) তালিকায় রেখেছে। তাই জয়সলমীরে এদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের পরিবেশগত ভারসাম্য এবং সংরক্ষণ প্রচেষ্টার এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।