উত্তাল তুরস্ক! পার্লামেন্টে উড়ল রক্ত, তুমুল মারপিটের মধ্যেই পাস হলো ২০২৬-এর বাজেট বিল।

তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এখন সংবাদের শিরোনামে, তবে কোনো গঠনমূলক আলোচনার জন্য নয়, বরং নজিরবিহীন এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য। ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ক্ষমতাসীন একে পার্টি (AK Party) এবং বিরোধী দল সিএইচপি (CHP)-র সাংসদদের মধ্যে হাতাহাতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সংসদ কক্ষ কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলা এই হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তুরস্কের রাজনীতি।

একোল টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একে পার্টির সাংসদ মুস্তফা ভারাঙ্ক যখন বক্তব্য রাখতে যাচ্ছিলেন, তখন বিরোধী সদস্য ইলহামি আইগুন এবং মুরাত আমির তাঁর ওপর চড়াও হন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধাক্কাধাক্কি, মারধর এবং একে অপরকে ঘুসি মারার ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে যায় পার্লামেন্টে। বিশৃঙ্খলা এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, এমএইচপি সাংসদরা তাঁদের নেতা ডেভলেট বাহচেলিকে রক্ষা করতে তাঁর চারপাশে একটি মানবপ্রাচীর তৈরি করতে বাধ্য হন।

রক্তাক্ত ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুরস্কের পার্লামেন্টে মারপিটের ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টেও কারাবন্দী সাংসদ ক্যান আতালেয়ের মুক্তি নিয়ে বিতর্কের সময় রক্ত ঝরতে দেখা গিয়েছিল সংসদ কক্ষের সাদা সিঁড়িতে। এবারও সেই একই হিংস্রতার পুনরাবৃত্তি ঘটল। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত ৩২০-২৪৯ ভোটে ২০২৬ সালের বাজেট বিল পাস করিয়ে নেয় সরকার।