“ভুল হয়ে গেছে… অভিষেক যা বলেছেন সেটাই করব!” ধমক খেয়ে লাইনে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা

লোকসভার সাংসদ হওয়ার পর দিল্লির অলিন্দে প্রথম বড় ‘ঝটকা’ খেলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অনুমতি না নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়েছিলেন হুগলির এই তারকা সাংসদ। সেই বিতর্কের পর এবার মুখ খুললেন রচনা। সাফ জানালেন, দলের নির্দেশই শেষ কথা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল দিল্লিতে? তৃণমূল সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের কাউকে না জানিয়েই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন রচনা। তৃণমূলের সংসদীয় নীতি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই ‘অনুপস্থিতি’র জন্য দিল্লিতে সাংসদদের বৈঠকে রচনাকে কড়া পাঠ পড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রচনার স্বীকারোক্তি: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রচনা বলেন, “দলের নির্দেশ যেটা হবে সেটাই আমাদের পালন করতে হবে। যে কোনও সমস্যা হলে দিদি বা অভিষেককে মেইল পাঠানো উচিত। আমরা সেটাই করব।” নিজের ভুল কবুল করে তিনি আরও যোগ করেন, “কীর্তিদা (কীর্তি আজাদ) একটা ভুল করে ফেলেছেন, সেটা থেকে আমরা সবাই সজাগ হয়ে গিয়েছি। ভুল হলে কেউ জেনেবুঝে করি না।”

কেন রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন রচনা? ভুল স্বীকারের পাশাপাশি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কারণও স্পষ্ট করেছেন তিনি। রচনা জানান:

তাঁর সংসদীয় এলাকা ধনেখালিতে ‘বিশ্ব ইজতেমা’ অনুষ্ঠিত হবে।

সেখানে প্রচুর মানুষের ভিড় হবে, তাঁদের যাতায়াতের সুবিধার জন্যই তিনি রেল ও বিমানের সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি জানাতে চেয়েছিলেন।

এলাকার মানুষের দাবির কথা মাথায় রেখেই তিনি এই পদক্ষেপ নেন।

অভিষেকের কড়া ক্লাস: সাংসদদের কড়া পাঠ দিয়ে অভিষেক জানিয়েছেন, দিল্লি গিয়ে কোনও সাংসদ যেন এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত না নেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে দলের ঐক্য বজায় রাখাই এখন তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য। রচনার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ এখন থেকে প্রতিটি পা ফেলবেন মেপে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01