ভোটার তালিকায় ভুয়ো সই ও জোড়া নাম! এবার ভোটারকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন, নজরে ‘বিদেশি’ কার্ড

ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে অনিয়ম রুখতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিক বা বিএলও নয়, ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এবার সরাসরি একজন ভোটারকে শোকজ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির নাম একই সঙ্গে কলকাতার শ্যামপুকুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে রয়েছে।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: তদন্তে দেখা গিয়েছে, দুটি আলাদা জায়গার ফর্মে সই রয়েছে ওই ভোটারের। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, একটি ফর্মে ওই ব্যক্তি নিজে সই করলেও অন্যটি অন্য কেউ করে দিয়েছেন। এই জালিয়াতির কারণ দর্শাতেই তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকেই স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করা এই নোটিস ভোটারদের কাছে পাঠানোর কাজ শুরু হবে।
কমিশনের নজরে বিদেশি নাগরিক: ভোটার তালিকায় নাম থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের উসকে দিয়েছে আঞ্চলিক বৈদেশিক পঞ্জিয়ন কার্যালয় (FRRO)। অবৈধভাবে তৈরি হওয়া বিদেশি নাগরিকদের ভোটার কার্ড বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়েছে:
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনো অবৈধ নাম তালিকায় পাওয়া যায়, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO)-কে নিতে হবে।
কর্তব্য পালনে গাফিলতি প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখে পড়বেন দুঁদে অফিসাররাও।
অভিযোগের পাহাড় ও প্রশাসনিক তৎপরতা: খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৫টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে ৫ থেকে ৭টি অভিযোগের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজের চাপ সামলাতে রাজ্যের কাছে বাড়তি অফিসার চেয়েছিল কমিশন। সেইমতো ২৮০০ জন অতিরিক্ত এইআরও (AERO) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৯৪ জন ইআরও এবং ৩০৫৯ জন এইআরও এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় কোনো ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না কমিশন। কোনো ভুল তথ্য বা জালিয়াতি ধরা পড়লে কাউকেই রেয়াত করা হবে না— এই বার্তাই এখন স্পষ্ট।