নীতীশের ‘হিজাব’ কাণ্ডে ঘি ঢাললেন গিরিরাজ! ‘ও নরকে যাক’ মন্তব্যে নারী সম্মান নিয়ে উত্তাল রাজনীতি

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ‘হিজাব বিতর্ক’ এখন আর শুধু রাজ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা জাতীয় স্তরে পৌঁছেছে। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এক মহিলা আয়ুষ চিকিৎসকের মুখ থেকে হিজাব সরানোর চেষ্টা করে নীতীশ কুমার এখন বিরোধীদের নিশানায়। আর এই আগুনেই ঘি ঢাললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।

ঠিক কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে? মঙ্গলবার ১,২০০-র বেশি চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। অনুষ্ঠানের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরিহিত এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎই তাঁর মুখ থেকে কাপড় সরানোর চেষ্টা করেন নীতীশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশে থাকা উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে বাধা দিতেও দেখা যায়। এই ভিডিও ঘিরেই আরজেডি এবং কংগ্রেস ‘নারীর অবমাননা’র অভিযোগ তুলেছে।

গিরিরাজের বিস্ফোরক মন্তব্য: নীতীশের সমর্থনে দাঁড়িয়ে গিরিরাজ সিং সাফ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কোনও ভুল করেননি। পরিচয় নিশ্চিত করতে মুখ দেখাতে হয়, এটাই স্বাভাবিক।” কিন্তু বিতর্ক চরমে পৌঁছায় যখন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন— ওই মহিলা যদি চাকরি নিতে না চাইতেন? গিরিরাজের জবাব ছিল সরাসরি, “ও চাকরি নিতে না চাক কিংবা নরকে যাক… এটা ভারত, এখানে ভারতীয় আইনই চলবে।”

পাল্টা ধেয়ে এল ‘ফিনাইল’ আক্রমণ: গিরিরাজের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে উঠেছেন পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি। তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করে লেখেন, “এই ধরণের নেতার মুখ ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।” সেই সঙ্গে মুসলিম মহিলাদের হিজাব বা নিকাব স্পর্শ না করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

জেডিইউ-এর সাফাই: নীতীশের দল জেডিইউ অবশ্য এই ঘটনাকে স্রেফ ‘স্নেহ’ হিসেবেই দেখছে। বিহারের মন্ত্রী জামা খান দাবি করেন, “নীতীশজি একজন মুসলিম কন্যার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজ ওই সফল মেয়ের মুখ দেখুক।” তবে এনডিএ শরিক নিষাদ পার্টির নেতা সঞ্জয় নিষাদের একটি বিতর্কিত মন্তব্য এই জলকে আরও ঘোলা করেছে।

এক মুহূর্তের আচরণ থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন রাজনীতির ময়দানে শালীনতা এবং নারীর সম্মান নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01