বয়স ৭০, কিন্তু মঞ্চে উঠলেই তেজ ২১-এর! পটাশপুরের রমেশ মুনিয়ান আজও যাত্রাজগতের ‘আনক্রাউনড কিং’

হাতে লাঠি নয়, বরং ধরা থাকে যাত্রার স্ক্রিপ্ট। চশমার আড়ালে ঝিমিয়ে পড়া চোখ নয়, বরং জ্বলে ওঠে অভিনয়ের আগুন। তিনি রমেশ চন্দ্র মুনিয়ান। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ২ ব্লকের এই বাসিন্দার কাছে বয়সটা ক্যালেন্ডারের পাতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ৭০ বছর বয়সেও যখন তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংলাপ ছুড়ে দেন, তখন দর্শকদের হাততালিতে কান পাতা দায় হয়ে পড়ে।

১৫ টাকার পারিশ্রমিক থেকে ২০০ যাত্রার নায়ক: রমেশবাবুর অভিনয়ের সফর শুরু হয়েছিল স্কুল জীবনে, শিক্ষকদের হাত ধরে। সেই যে অভিনয়ের নেশা মাথায় চেপেছিল, তা আর নামেনি। কেরিয়ারের শুরুতে মাত্র ১৫-২০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন তিনি। টাকার চেয়ে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাই ছিল বড়। সেই প্যাশনকে সম্বল করেই আজ তিনি ২০০-এর বেশি যাত্রায় অভিনয় করে ফেলেছেন। পটাশপুরের এই শিল্পী আজ মেদিনীপুরের গর্ব।

অভিনয় ছাড়িয়ে অল-রাউন্ডার: রমেশবাবু শুধু অভিনেতা নন, তিনি একাধারে লেখক ও প্রযোজক। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য নাটক। সমাজ আর মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসে তাঁর কলমে। নতুন শিল্পী গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মঞ্চের খুঁটিনাটি সামলানো— সবকিছুতেই তিনি সমান দক্ষ। নতুন দল হোক বা পুরনো, রমেশবাবুকে পাশে পেতে চায় সবাই।

কেন আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী রমেশবাবু? দর্শকদের মতে, তাঁর কণ্ঠে যে দৃঢ়তা আর অভিনয়ে যে অভিজ্ঞতার ছাপ পাওয়া যায়, তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই বিরল। চরিত্রে ঢুকে পড়তে তাঁর এক মুহূর্ত সময় লাগে না। দীর্ঘক্ষণ মঞ্চে দাপিয়ে বেড়ালেও ক্লান্তির লেশমাত্র থাকে না তাঁর মুখে। আজও তাঁর অভিনয় দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।

পটাশপুরের এই প্রবীণ শিল্পী প্রমাণ করে দিয়েছেন, মনের জোর আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়সের ভার কোনোদিন প্রতিভাকে হার মানাতে পারে না। তিনি আজও শিখিয়ে চলেছেন— মঞ্চই জীবন, আর জীবনই এক বিশাল যাত্রাপথ।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01