নিউ মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়! বড়দিনের সাজ কিনতে পকেটে কতটা টান পড়ছে মধ্যবিত্তের?

ক্যালেন্ডারের পাতায় সপ্তাহ ঘুরলেই ২৫ ডিসেম্বর। বড়দিন মানেই কেকের সুবাস, আলোকোজ্জ্বল পার্ক স্ট্রিট আর অবশ্যই সাদা দাড়ি ও লাল পোশাকে মোড়া সেই রহস্যময় সান্তাক্লজ। ২০২৬-কে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি আর বড়দিনের উৎসবে মাততে এখন থেকেই সেজে উঠছে শহর তিলোত্তমা। আর এই উৎসবের আমেজ সবথেকে বেশি ধরা পড়ছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার নিউ মার্কেট চত্বরে।
কেনাকাটায় তুঙ্গে ব্যস্ততা: বাহারি পসরার ডালি
নিউ মার্কেটের অলিগলি এখন ক্রিসমাস ট্রি, সান্তা টুপি আর জিংগেল বেলে ঠাসা। ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে দেদার বিকোচ্ছে সান্তা টুপি। অন্যদিকে, ঘর সাজানোর জন্য বাহারি ক্রিসমাস ট্রি মিলছে ২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও রয়েছে স্লেজ গাড়ি, তারা, ঘণ্টার মতো রকমারি সাজসজ্জার সরঞ্জাম। যার দাম ৫০ থেকে ৫০০ টাকার আশেপাশে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য ছবি
কলকাতা বরাবরই সর্বধর্ম সমন্বয়ের শহর। দুর্গাপুজো বা ইদের মতোই বড়দিনও এখানে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। নিউ মার্কেটের ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন মহম্মদ ইসমাইল, শাবির আহমেদ বা মহম্মদ সাদেকরা। তাঁদের হাতের তৈরি সামগ্রী দিয়েই সাজবে অগণিত মানুষের ড্রয়িং রুম। উৎসব যে ধর্মের বেড়াজাল মানে না, বড়দিনের এই বাজার যেন আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।
দাম বাড়লেও কমেনি উৎসাহ
তবে মুদ্রাস্ফীতির ছোঁয়া লেগেছে উৎসবের বাজারেও। নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা অতিস মণ্ডল আক্ষেপের সুরে বলেন, “গত বছর ১৫০০ টাকায় যা জিনিস পেয়েছিলাম, এবার সেই টাকায় অর্ধেক সরঞ্জামও হচ্ছে না।” যদিও দামের এই উর্ধ্বগতিকে আমল দিতে নারাজ অনেক ক্রেতাই। সন্দীপ চৌধুরীর কথায়, “দাম কিছুটা বেশি হলেও অপশন অনেক। কেনাকাটা সেরে এবার সোজা কেকের দোকানে যাব।”
বিক্রেতাদের চোখে আশার আলো
বিক্রেতা শাবির আহমেদ জানান, কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে সাজসজ্জার জিনিসের দাম এবার কিছুটা চড়া। তবে সিজনাল ব্যবসা হওয়ায় তাঁরা ভালো বিক্রির আশা রাখছেন। মহম্মদ ইসমাইলও সুর মিলিয়ে জানালেন, বাজার শুরু থেকেই জমজমাট। সান্তা টুপি আর ক্রিসমাস ট্রির চাহিদাই সবথেকে বেশি।
বছরের শেষবেলায় আনন্দ ভাগ করে নিতে বাঙালির প্রিয় গন্তব্য এখন নিউ মার্কেট। পকেটে কিছুটা টান পড়লেও, উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়তে নারাজ শহরবাসী।