ভোটার তালিকায় বাতিল ওবিসি সার্টিফিকেটের ব্যবহার? হাইকোর্টে দায়ের মামলা, বিপাকে নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ওবিসি শংসাপত্রের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় আইনি বিতর্ক দানা বাঁধল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মামলাকারী। ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলি যাতে ভোটার তালিকায় নথি হিসেবে ব্যবহার না করা যায়, সেই আবেদন জানিয়ে এই মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই জরুরি মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।

মামলার মূল কারণ: মামলাকারী আইনজীবী অরিজিৎ বক্সীর দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের পূর্বতন রায় অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জারি করা ওবিসি শংসাপত্রগুলি আইন মেনে তৈরি হয়নি। ফলে এসআইআর বা ভোটার তালিকা যাচাইয়ের পর্বে এই শংসাপত্রগুলিকে বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়া উচিত নয়। এই মর্মে কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ না করায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

পুরনো বিতর্ক ও আদালতের রায়:

মে ২০২৪: বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দেন।

পর্যবেক্ষণ: আদালত জানিয়েছিল, ১৯৯৩ সালের নিয়ম মেনে এই শংসাপত্র দেওয়া হয়নি। প্রকৃত পিছিয়ে পড়াদের তালিকা ফের তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট: রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গেলে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

বর্তমান সংকট: রাজ্যে গতকালই এসআইআর প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। নথি যাচাইয়ের জন্য যে ১৩টি নথির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে ওবিসি শংসাপত্রও রয়েছে। মামলাকারীর দাবি, যে শংসাপত্র নিয়ে উচ্চ আদালতে প্রশ্ন উঠেছে, তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হলে গোটা প্রক্রিয়ায় গলদ থেকে যাবে।

আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, অন্যদিকে হাইকোর্টে নতুন মামলা— এই সাঁড়াশি চাপে রাজ্যে ভোটার তালিকা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01