‘কংগ্রেসের কিছু নেই’-2026-এর নির্বাচনে ‘জোট’ সম্ভাবনা নিয়ে যা বললেন অভিষেক

দিল্লির মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বসা ছবি দেখে দেশবাসী জোটের স্বপ্ন দেখলেও, বাংলায় যে সমীকরণ একেবারেই উল্টো, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। বুধবার দিল্লিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটে জেতার জন্য তাঁদের কংগ্রেসকে প্রয়োজন নেই। পাল্টা জবাব দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একাই ২৯৪টি আসনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অভিষেকের কড়া আক্রমণ: এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলায় কংগ্রেসের এমন কিছু নেই যা দেখে আমাদের জোট করতে হবে। ২০২৪-এর লোকসভায় আমরা ওদের একটা আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ওরা রাজি হয়নি। ফল তো হাতেনাতে পেয়েছেন—দুটো আসন থেকে কমে এখন মাত্র একটাতে ঠেকেছে কংগ্রেস।” তিনি আরও যোগ করেন, “২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে তৃণমূল একাই লড়ে জিতেছে। কারও সাহায্যের দরকার পড়েনি।” জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন জানালেও, অভিষেকের শরীরী ভাষা ও মন্তব্য কার্যত জোটের সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

কংগ্রেসের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: অভিষেকের এই মন্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “কংগ্রেস ২৯৪টি আসনেই লড়াই করবে, এটাই বাংলার মানুষের দাবি। ২০১১ সালে কংগ্রেস সাথে ছিল বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গড়তে পেরেছিলেন।” তিনি আরও দাবি করেন যে, তৃণমূলের সাথে জোট করে লড়তে নারাজ বাংলার নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীরাও।

ছাব্বিশের লড়াইয়ে নতুন মেরুকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি বয়ানে একটা বিষয় পরিষ্কার—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের দুই প্রধান শরিক দলের মধ্যে বাংলায় কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ফলে ভোট প্রচারে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধীকে একে অপরের বিরুদ্ধেই তোপ দাগতে দেখা যেতে পারে।

তৃণমূল যখন তাদের উন্নয়নমূলক ‘রিপোর্ট কার্ড’ নিয়ে মানুষের দ্বারে পৌঁছাতে চাইছে, তখন কংগ্রেস একক শক্তিতে বাংলায় নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের শেষ লড়াই লড়তে মরিয়া।