যাত্রা দেখে বাড়ি ফেরার পথে আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণ, ৬ অভিযুক্ত গ্রেফতার; পকসো আদালতে তুলতেই উত্তেজনা

বীরভূমের মল্লারপুর থানার শিবপুর গ্রামে এক আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মঙ্গলবার রামপুরহাট মহকুমা পকসো আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি রামপুরহাট থানার ধরমপুর গ্রামে। সোমবার রাতে বীরভূমের মল্লারপুর থানার শিবপুর গ্রামের বাগানপাড়ায় আদিবাসীদের একটি যাত্রানুষ্ঠান চলছিল। সেই যাত্রা দেখতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা, সঙ্গে ছিলেন মহম্মদবাজার থানার আগোয়া গ্রামের বাসিন্দা এক নিকটাত্মীয়।

বাইক থামিয়ে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, যাত্রা দেখে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিকটাত্মীয়ের মোটর বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় মল্লারপুর থানার শিবপুর গ্রামের কাছে ঘাগা বাইকটি থামানো হয়। এরপর নাবালিকাকে জোর করে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করা হয়। দু’জন বাইক চালককে আটকে রাখে। নিকটাত্মীয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় মল্লারপুর থানায়।

নির্যাতিতার বাবার বয়ান অনুযায়ী, তাঁর নিকটাত্মীয় অভিযুক্তদের চিনতে পারায় পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হলো—সমাপ্ত কোনাই, অরিন্দম সোরেন, শুভজিৎ ঘোষ, বনমালি ঘোষ, সুজিত ঘোষ ও অভিজিৎ ঘোষ। প্রত্যেকেই শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত চত্বরে বিক্ষোভ, ৬ দিনের পুলিশ হেফাজত

মঙ্গলবার নির্যাতিতা নাবালিকাকে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। এরপর ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় রামপুরহাট মহকুমা আদালত চত্বরেই অভিযুক্তদের উপর চড়াও হন উত্তেজিত আদিবাসীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী দেবপ্রসাদ ভট্টাচার্য জানান, “ধৃতদের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ আট দিনের হেফাজতের আবেদন জানালেও বিচারক ছয় দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। তাঁদের ২২ ডিসেম্বর ফের আদালতে তোলা হবে।”

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01