‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমাদের ভাই’, তৃণমূল নেতার মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, মালদহে মিম-কে ‘বিজেপির দালাল’ আক্রমণ!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরপর দুই তৃণমূল নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। একটি মন্তব্য ‘ভাই-সম্পর্ক’ নিয়ে জলপাইগুড়িতে, এবং অন্যটি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে মালদহে।
১. জলপাইগুড়িতে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান’ বিতর্ক
তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা এসটি–এসসি–ওবিসি সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাসের একটি বক্তব্য ঘিরে জলপাইগুড়ি জেলায় তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
কৃষ্ণ দাসের মন্তব্য:
শনিবার রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ি তারঘাঁড়া মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণ দাস বলেন:
“বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আমাদের ভাই। তাদের কোনওভাবেই আলাদা করা যাবে না।”
বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া:
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আগত রোহিঙ্গাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূল দেশের ক্ষতি করছে এমন শক্তির সঙ্গে আপস করছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। বিজেপি এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
২. মালদহে ‘মিম’ (AIMIM)-কে ‘দালাল’ আক্রমণ
অন্যদিকে, বাবরি মসজিদ শিলান্যাসের পর সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বকসি। তিনি মিম পার্টি এবং সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরকে নাম না করে বিজেপির দালাল বলে আক্রমণ করেন।
শনিবার মালতীপুরের জালালপুরে রহিম বকসি নিজের এলাকায় ৪ হাজার ইমাম মোয়াজ্জেমকে সম্বর্ধনা দেওয়ার একটি অনুষ্ঠান থেকে এই বক্তব্য রাখেন।
আব্দুর রহিম বকসির অভিযোগ:
তিনি প্রকাশ্যে মঞ্চে বলেন, “এরা সংখ্যালঘু ভোটকে বিভাজন করে রাজ্যে বিজেপির সুবিধা করতে দিতে চাইছে। তাদের দালাল বলবে সাধারণ মানুষও। ওরা মুসলিমের নাম ভোট চাইবে।” অর্থাৎ, মিম-এর মতো নতুন দলগুলি ভোট কেটে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে।
বিজেপির পাল্টা জবাব:
এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির উত্তর মালদহের সাধারণ সম্পাদক পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, “এতদিন সংখ্যালঘুদের ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ে সরকার চালিয়েছে তৃণমূল। ভাওতা দিয়ে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করেছে। এখন তারা তৃণমূল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের দুই জেলাতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।