থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধ, শতাব্দীপ্রাচীন যেসব মন্দিরের মালিকানা নিয়ে সীমান্তে চলছে সংঘর্ষ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এখন পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের মূল সংঘাতের কারণ হলো শতাব্দীপ্রাচীন কয়েকটি ঐতিহাসিক মন্দিরের মালিকানা। উভয় দেশই এসব ধর্মীয় স্থাপত্যের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ।

সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্তে টানা ছয় দিনের সংঘর্ষে উভয় দেশে এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। ভয়াবহ সহিংসতার কারণে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় ছয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এক মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি ও মূল কারণ:

সংঘাতের সূত্রপাত হয় ১৯৬২ সালে, যখন আন্তর্জাতিক আদালত ১১শ শতকের খেমার প্রিয়াহ ভিয়ার মন্দিরটি কম্বোডিয়াকে দিয়ে দেয়। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা মানচিত্রের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হলেও থাইল্যান্ড তা পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। বিশেষ করে, ২০০৮ সালে যখন মন্দিরটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন থাইল্যান্ডে জাতীয়তাবাদী বিক্ষোভ শুরু হয়।

  • বিবাদের মূল কেন্দ্র: বিতর্কিত মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো খেমার সাম্রাজ্যের নির্মিত হিন্দু মন্দির প্রিয়াহ ভিয়ার, এবং তা মুয়েন থম ও তা কোয়াই মন্দির।

  • ‘পান্না ত্রিভুজ’: থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা মিলিত হয়েছে যে অঞ্চলে, সেই ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা ‘পান্না ত্রিভুজ’ নামক অঞ্চলের মালিকানা নিয়েও দুই দেশ দ্বন্দ্বে লিপ্ত।

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সীমান্তে সাময়িক শান্তি এলেও, গত মে মাসে থাই সেনাদের হাতে একজন কম্বোডীয় সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই ও ডিসেম্বরে আবারও ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং দুই দেশের কঠোর অবস্থানের কারণে সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ