নদীভাঙন আতঙ্ক দূর, চন্দ্রকোনার মনোহরপুরে শুরু বাঁধ নির্মাণ! প্রশাসনের উদ্যোগে স্বস্তি, ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছে ঘর-বাড়ি ও চাষের জমি

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার মনোহরপুর এক ও দুই নম্বর গ্রামের বাসিন্দারা এবার পেতে চলেছেন এক বিশাল স্বস্তি। বর্ষা নামলেই নদীভাঙন ও জল ঢোকার আশঙ্কায় যাদের রাতের ঘুম উধাও হয়ে যেত, অবশেষে তাদের বহুদিনের দাবি পূরণ করে প্রশাসনের তরফে শুরু হয়েছে নদী বাঁধ নির্মাণের কাজ। বছরের পর বছর ধরে নদীর জল ফুলে ফেঁপে ওঠায় বাড়িঘর এবং চাষের জমি ঝুঁকির মুখে ছিল। তবে এবার সেই পরিস্থিতির বদল স্পষ্ট।

নদীর পাড় জুড়ে দ্রুত গতিতে চলছে বাঁধ শক্ত করার কাজ। মাটি ফেলা, বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো এবং দুর্বল জায়গাগুলোকে সুরক্ষিত করার কাজ চলছে জোরকদমে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যাতে গোটা এলাকা নিরাপদ হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজের ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই কাজে যুক্ত মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দারা এখন চরম উৎকণ্ঠার পরিবর্তে বুক বাঁধছেন নতুন প্রত্যাশায়।

গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, “এবার অন্তত ভয়ের মধ্যে থাকতে হবে না। এতদিন বর্ষার সময় রাত জেগে থাকতে হতো। মনে হচ্ছে সত্যিই সমস্যার সমাধান হবে।” অনেক কৃষক জানিয়েছেন, প্রতি বছর নদী ভাঙনের আশঙ্কায় চাষের কাজে বিনিয়োগ করতে ভয় পেতেন। কিন্তু বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় এখন কৃষিকাজের উপরও নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।

মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, বাজার-হাট এবং চাষাবাদ সবকিছুই হবে নিরাপদ। এখন মানুষের মুখে একটাই কথা, “বর্ষা এলে জল নামবে ঠিকই, কিন্তু আর ভয়ের রাত কাটাতে হবে না।”

প্রশাসনের এই সময়োচিত উদ্যোগে নদী বাঁধ নির্মাণ যে গ্রামবাসীর জীবনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তা স্পষ্ট তাদের স্বস্তি আর উচ্ছ্বাসে। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে মনোহরপুর এক ও দুই নম্বর গ্রাম আজ সামনে দেখছে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বর্ষার দিনের প্রতিশ্রুতি।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01