মেসি-দর্শনের ব্যর্থতা, ‘প্রতারক’ শতদ্রু দত্তর বাড়িতে পুলিশি পিকেট! রিষড়ায় আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় ফুটবলপ্রেমীদের রোষ
শুক্রবার রাত পর্যন্ত বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইভেন্টের নায়ক, শনিবারের বারবেলা থেকেই তিনি পরিণত হয়েছেন ‘এক নম্বর খলনায়কে’। লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার ব্যর্থ শো এবং যুবভারতীর চরম বিশৃঙ্খলার জেরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হয়েছেন। তবে গ্রেফতারির পরেও তাঁর প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের রোষ এতটুকু কমেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হুগলি জেলার রিষড়ার বাঙুর পার্ক অঞ্চলে শতদ্রুর বাড়িতে পুলিশি পিকেট বসানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক রয়েছে রিষড়া থানা এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট থেকে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত শতদ্রুর বাড়িতে জনরোষের প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি, তবুও পুলিশ প্রশাসন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ।
কে এই শতদ্রু দত্ত?
শ্রীরামপুরের হোলি হোম স্কুলে পড়াশোনা করা শতদ্রু ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতেন। একসময় বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন, পরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে জামাইবাবুর সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তাঁর উত্থান হয় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারদের কলকাতায় নিয়ে এসে চমকে দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি সেই সব খেলোয়াড়দের কলকাতায় নিয়ে আসতেন, যাঁদের এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তরা আসমুদ্র হিমাচল পাড়ি দিতে পারেন।
কলকাতায় এলে পেলে, কাফু, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং রোনাল্ডিনহো গাউচোর মতো কিংবদন্তিদের নিজের বাড়িতেও নিয়ে আসতেন শতদ্রু। বাড়িতেই বানিয়েছিলেন একটি ফুটবল মাঠ। লিওনেল মেসিকে আনার জন্য তিনি দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। মেসির বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবাকে রাজি করান এবং পরে মেসির সঙ্গে দিনক্ষণ ঠিক করেন।
প্রতিবেশীদের ক্ষোভ
শনিবারের ব্যর্থ মেসি শো-এর জন্য বহু লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু হাজার হাজার মেসি ভক্ত ভিড় জমিয়েও মেসি-দর্শন করতে পারেননি। অব্যবস্থা, ভাঙচুর ও চরম বিশৃঙ্খলার এই ছবি কলকাতার মাথা হেঁট করেছে।
শতদ্রুর প্রতিবেশীরাও এই অব্যবস্থায় হতাশ। তাঁরা জানিয়েছেন, “এর আগে যখন মার্টিনেজ এলেন তখন সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু শনিবার অব্যবস্থার কারণে কেউ মেসিকে দেখতেই পাননি। দর্শকাশনে যাঁরা অনেক দূরে ছিলেন, তাঁরা কোনওভাবেই মেসিকে দেখতে পাননি। নেতা-মন্ত্রীদের ভিড় ছিল মেসিকে ঘিরে। তিনি মাঠ প্রদক্ষিণও করেননি, মাত্র কয়েক মিনিট থেকেই মাঠ ছাড়েন। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দর্শকরা।”