নো টাচ, নো ফোন পলিসি পেরিয়ে মিনিট দুয়েকের সাক্ষাৎ, মেসি-দর্শনের পর মুখ খুললেন পরোটাওয়ালা রাজুদা

ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi) কলকাতায় আসার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছিলেন বনগাঁর পরোটা বিক্রেতা রাজু দাস, যিনি ‘রাজুদা’ নামেই পরিচিত। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আয়োজক শতদ্রু দত্ত তাঁকে মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেন। মিনিট দুয়েকের সেই বিশেষ সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা এবার নিজেই জানালেন রাজুদা।
শতদ্রু দত্তের উদ্যোগ ও ট্রোল থেকে সাক্ষাৎ: রাজুদা জানান, দু’মাস আগে যখন মেসির আগমনের খবর আসে, তখন তাঁকে নিয়ে ‘মেসি এসে তাঁর দোকানে পরোটা খাবে’ বলে ট্রোল শুরু হয়। এই ট্রোল দেখে শতদ্রু দত্ত ফেসবুকে লেখেন, “একটা গরীব ঘরের ছেলে, নিজের এলেমে খেটে খাচ্ছে, এটা নিয়ে খিল্লি করছ? আমি এটাকে বাস্তবে রূপ দেব।” এরপরই শতদ্রুর টিমের পক্ষ থেকে রাজুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বাধাবিপত্তি পেরিয়ে হোটেলে প্রবেশ: শুক্রবার রাতে প্রতীক্ষিত ফোন আসার পর রাজুদাকে শনিবার সকাল ৭টার মধ্যে বাইপাসের হোটেলে পৌঁছাতে বলা হয়।
সংগ্রাম: রাজুদার বাড়ি বনগাঁ। ভোর সাড়ে চারটের মধ্যে গুছিয়ে তিনি বন্ধুর গাড়িতে হোটেলের মুখে পৌঁছান। তবে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকায় পুলিশ তাঁকে ঢুকতে বাধা দেয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি হোটেলে প্রবেশের ছাড়পত্র ও ব্যান্ড পান।
কঠোর নিয়ম: ভেতরে প্রবেশের আগে তাঁর ফোন জমা নেওয়া হয় এবং বারবার সতর্ক করা হয়, যেন তিনি মেসিকে না ছোঁন বা চিৎকার করে কথা না বলেন।
মেসির সঙ্গে মিনিট দুয়েকের হ্যান্ডশেক: প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষার পর মেসি এলেন। সঙ্গে ছিলেন শতদ্রু দত্ত। শতদ্রুবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে পরোটাওয়ালা কে আছ?”
আলাপ: রাজুদা এগিয়ে আসতেই শতদ্রু দত্ত ইংরেজিতে মেসির সঙ্গে তাঁর পরিচয় করান। রাজুদা জানান, ঠিক বুঝতে না পারলেও তিনি ‘স্ট্রিট ফুড, স্ট্রিট সেলার’ জাতীয় কিছু শব্দ শুনতে পান।
সাক্ষাৎ: “মেসি স্যর, হাত বাড়ালেন, আমি হ্যান্ডশেক করেছি।” ফোন কাছে না থাকায় ছবি তুলতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও, রাজুদা এরপরেই বেরিয়ে আসেন।
শতদ্রুর প্রতি কৃতজ্ঞতা: যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে রাজুদা বলেন, “আমার মতো গরীব মানুষ যাঁরা কষ্ট করে টাকা জমিয়ে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁরা দেখতে না পেলে খারাপ তো লাগবেই।” তবে আয়োজক শতদ্রু দত্তের প্রতি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা:
“শতদ্রুবাবুর ঋণ আমি কী করে অস্বীকার করি। আমার মতো অতি সাধারণ এক পরোটাওয়ালাকে উনি মেসি স্যরের সঙ্গে দেখা করিয়েছেন! উনি ভগবান নয় তো কী? যে যাই বলুক, উনি আমার কাছে ঈশ্বর সমান।”c