আর হবে না বিয়ে, ডিভোর্সের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি! ৬০০ বছরের পুরোনো সোমেশ্বরস্বামী মন্দিরে বিয়ের আয়োজন বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত

কম খরচে ও অল্প সময়ে মন্দিরে বিয়ে করার যে চল উনিশ শতক থেকে কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে প্রচলিত, তারই মিল পাওয়া যেত কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো সোমেশ্বরস্বামী শিবমন্দিরে। চোল রাজাদের আমলে তৈরি এই পবিত্র তীর্থস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের মরসুমে যুগলদের ভিড়ে মুখরিত থাকত।

কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিটাই বদলে গেল। মন্দির কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যে, তারা আর মন্দিরে কোনও বিয়ের আয়োজন করবে না। এই ঘোষণার পরেই কর্নাটকজুড়ে হইচই শুরু হয়েছে।

বিয়ে বন্ধের কারণ: এক যুবককে মন্দিরে বিয়ে দিতে অস্বীকার করার পর তিনি সরাসরি কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে লিখিত অভিযোগ জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হলে, তার জবাবে কর্তৃপক্ষ বিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কারণ জানায়:

অস্বাভাবিক ডিভোর্স হার: মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখানে বিয়ে হওয়া দম্পতিদের মধ্যে ডিভোর্সের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে।

নিয়মিত আদালতে হাজিরা: একাধিক ডিভোর্স মামলা আদালতে যাওয়ায় বিচারকরা নিয়মিতভাবে সাক্ষী হিসেবে পুরোহিতদের তলব করছেন। প্রায় রোজই কোনো না কোনো পুরোহিতকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

পূজা ব্যাহত: পুরোহিতদের নিয়মিত আদালতে যাতায়াতের ফলে মন্দিরের নিয়মিত পুজো-আচ্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নিরাপত্তাজনিত সমস্যা: অফিসিয়াল কারণ ছাড়াও, আনঅফিসিয়ালি আরও একটি গুরুতর কারণ সামনে এসেছে। অভিযোগ, মন্দিরে এসে বিয়ে করা কিছু যুগলের পরিবার কিছুদিন পরে লোকজন নিয়ে লাঠি-সোটা হাতে মন্দিরে হাজির হচ্ছে। পুরোহিতদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এত ঝুঁকি আর নিতে নারাজ মন্দির কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে, ডিভোর্স মামলার চাপ, আদালতের নিয়মিত ডাক এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যার জেরে প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দিরে যুগলদের জন্য বিয়ের দরজা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।