মার্কিন অস্ত্রের দুর্বলতা ফাঁস, তাইওয়ান নিয়ে চিনের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকার হার নিশ্চিত, তোলপাড় পেন্টাগন

তাইওয়ান নিয়ে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) সঙ্গে যুদ্ধে নামলে জল, স্থল বা আকাশে—আমেরিকার হার নিশ্চিত। এই হার এখন লড়াই হলেও হবে, পাঁচ বছর পরেও হবে। পেন্টাগনের একটি ‘টপ সিক্রেট’ রিপোর্টে সোজাসাপ্টা ভাষায় এই কথাই বলা হয়েছে। এই রিপোর্টের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কার্যত তোলপাড় চলছে ওয়াশিংটনে। ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউএস ডিফেন্স সিস্টেমের উপর চাপ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পেন্টাগন রিপোর্টের মূল বিষয়: গত ১৯ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে পেন্টাগনের ওয়ারফেয়ার অ্যাসেসমেন্ট অফিস তাইওয়ানে মার্কিন প্রস্তুতি নিয়ে এই রিপোর্টটি জমা দেয়।
স্বল্পমেয়াদী সংঘর্ষে দুর্বলতা: রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকার পিপলস লিবারেশন আর্মির ঝটিকা আক্রমণ সামলানোর ক্ষমতা নেই। সংঘর্ষ দেড় বা দু’দিন চললেও চিন বাজি মারবে।
অস্ত্রের কার্যকারিতা: এর কারণ হলো—মার্কিন সেনার অস্ত্রশস্ত্র অত্যন্ত দামি হলেও ঝটিকা যুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সেগুলি সুবিধা দিলেও, স্বল্প সময়ে চিনের সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্র অনেক এগিয়ে।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব: রিপোর্টে শুধু চিন সাগর নয়, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতকে বাদ দিয়ে আমেরিকার পক্ষে সামরিকভাবে এগোনো কার্যত অসম্ভব।
চিনের প্রভাব: চিন ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের প্রবেশপথগুলিতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শক্তিশালী জাহাজ আর বিপুল মিসাইল থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা ব্যবহার করা কঠিন।
মার্কিন নৌসেনার ধাক্কা ও তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা: গত এক বছরে বিভিন্ন জলসীমায় মার্কিন নৌসেনা একের পর এক ধাক্কা খেয়েছে। ২৭ অক্টোবর মহড়ার সময় ইউএসএস নিমিৎজ (USS Nimitz) থেকে একটি এফ/এ-১৮ এফ হর্নেট যুদ্ধবিমান এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। দেড় মাস পর সেগুলি উদ্ধার করা হয়।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের বহু গোপন তথ্য চিনের হাতে চলে যেতে পারে। এই কারণেই সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি থেকে সব বিমান ও কপ্টার সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।
ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব: এশিয়ায় জাপান ছাড়া আমেরিকার নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুবই কম। অন্যদিকে চিনের পাশে রয়েছে রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার কাছে ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।