দেশের ইতিহাসে প্রথম ডিজিটাল জনগণনা! ১১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, জাতিভিত্তিক গণনা হবে ২০২৬-২৭ সালে

ভারতের জনগণনার জন্য ১১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ অনুমোদন করল কেন্দ্রীয় সরকার। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শুক্রবার জানিয়েছেন, এই জনগণনার কাজ দুটি ভাগে সম্পন্ন হবে—প্রথম দফায় ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এবং দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
কেন এবারের জনগণনা বিশেষ:
এবারের জনগণনা দুটি দিক থেকে নজির সৃষ্টি করতে চলেছে:
১. প্রথম জাতিভিত্তিক গণনা: এবারই প্রথমবার জনগণনার পাশাপাশি জাতিভিত্তিক গণনাও করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি এই দাবি জানিয়ে আসছিল, যা শেষমেশ কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নিল।
২. প্রথম ডিজিটাল জনগণনা: তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ডিজিটাল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম দফায় বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করবেন প্রায় ৩০ লক্ষ কর্মী। এই তথ্য সংগ্রহ হবে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে, যার উপর নজরদারি করা হবে কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাহায্যে।
সময়সূচি পরিবর্তন কেন:
আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এই কারণে জনগণের কাজ দুটি দফায় বিভক্ত করা হয়েছে। তবে, লাদাখ-সহ হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি জায়গায় তাপমাত্রা ও বরফের কারণে ফেব্রুয়ারির বদলে আগামী সেপ্টেম্বরেই এনুমারেশনের কাজ শুরু হবে।
সরকারের নীতি নির্ধারণে সুবিধা:
মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এবারের জনগণনার তথ্য হবে অত্যন্ত সরল ও মেশিন-পাঠযোগ্য। এতে কোনো জটিলতা থাকবে না এবং প্রয়োজন মতো সংশোধনও করা যাবে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করেই সরকার আগামিদিনের জন্য নীতি নির্ধারণ করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জনগণনায় দেশের প্রতিটি এলাকার নাগরিক যাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রয়োজন হবে ১.০২ কোটি কর্মদিবসের, যার মোট সময়কাল প্রায় ৫৫০ দিন।