পর্যটকদের অসচেতনতায় সংকটে বীরভূমের মামা-ভাগ্নে পাহাড়, দূষণের জেরে জীববৈচিত্র্য নষ্টের আশঙ্কা

বীরভূমের দুবরাজপুরের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র মামা-ভাগ্নে পাহাড় পারদ নামতেই পর্যটকদের ভিড়ে ভরে উঠেছে। কিন্তু সেই ভিড়ের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশ দূষণের প্রবণতা। পাহাড় ও সংলগ্ন জঙ্গলে ভাঙা কাঁচের বোতল, প্লাস্টিকের গ্লাস, থার্মোকল সহ নানা অপচনশীল বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থান দূষণের শিকার:
জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট মামা-ভাগ্নে পাহাড়। এখানে পাহাড়েশ্বর মন্দির চত্বরও রয়েছে, যেখানে শীতকালে ভিড় বাড়ে। মনোরম শিলাস্তর, গাছগাছালির আবরণ এবং শান্ত পরিবেশ এই স্থানের প্রধান আকর্ষণ। ভূতাত্ত্বিক গবেষকদের কাছেও এই প্রাকৃতিক শিলান্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাছাড়া, এই পাহাড় অঞ্চলে সত্যজিৎ রায়ের ‘অভিযান’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, সন্দীপ রায়ের ‘রবার্টসনের রুবি’ ও ‘গোঁসাইপুর সরগরম’-এর মতো বহু জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যধারণ হয়েছিল, যা এর পর্যটন ও ঐতিহ্যগত মূল্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
পর্যটকদেরও উদ্বেগ:
পর্যটক পল্লবী পাল এই দূষণ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ছোটবেলায় এসেছিলাম, আজ এত বছর পর আবার এসে দেখলাম অনেক পরিবর্তন। তবে কিছু জায়গায় দূষণ দেখে খারাপ লাগছে। মানুষ যদি একটু সচেতন হন, তাহলে জায়গাটা আরও সুন্দর থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “এত মানুষ ঘুরতে আসে তাই নিজেদেরই দায়িত্বশীল হতে হবে। অপচনশীল বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা মোটেই ঠিক নয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটকদের অসচেতনতা এবং প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচাতে দ্রুত বৃহৎ পরিসরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ, সচেতনতা প্রচার এবং নিয়মিত নজরদারি অভিযান চালানো জরুরি।