“দাদা, চুরিও প্রকাশ্যে করেন, সিগারেটও…”-সৌগতর ধূমপান দেখে গিরিরাজ যা বললেন?

সংসদের অভ্যন্তরে ধূমপান বা ই-সিগারেট সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) এক সাংসদের ই-সিগারেট খাওয়ার অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বিজেপি (BJP) সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur) সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) কাছে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ ভবনের বাইরে প্রবীণ TMC সাংসদ সৌগত রায়কে (Saugata Roy) ধূমপান করতে দেখা যায়, যার ভিডিও সামনে আসতেই শোরগোল আরও বেড়েছে।

🔴 অনুরাগের অভিযোগ ও স্পিকারের কড়া পদক্ষেপ

গত বৃহস্পতিবার সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘সারা দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ। আপনি কি সংসদের ভিতরে ই-সিগারেট সেবন করার অনুমতি দিয়েছেন?’

স্পিকার ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর দেন ‘না’। এরপরেই অনুরাগ ঠাকুর বলেন, ‘তাহলে একজন তৃণমূল সাংসদ গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ধূমপান করে চলেছেন সংসদের অন্দরে। দয়া করে এটি খতিয়ে দেখুন। সংসদে কি ধূমপান অনুমোদিত?’

জবাবে স্পিকার ওম বিড়লা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘কোনও সাংসদকেই সংসদের অন্দরে ধূমপানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন কোনও নিয়ম বা নজির লোকসভায় নেই। যদি এই ধরনের কোনও ঘটনা আমার নজরে আসে তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তিনি লোকসভার সিসিটিভি ফুটেজও (CCTV Footage) তলব করেছেন।

🗣️ সৌগত-গিরিরাজের কথোপকথন: ‘চুরিও খোলাখুলি’

সংসদে অভিযোগের পর সেদিনই অধিবেশনের বিরতিতে সংসদ ভবনের বাইরে মকর দ্বারের সামনে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে ধূমপান করতে দেখা যায়। সেই সময় বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh) তাঁকে দেখে ফেলেন। গিরিরাজ সিং হাত ধরে অনুরোধ করে সৌগত রায়কে বলেন, ‘দাদা, দয়া করে সিগারেট খাবেন না। আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে এটা ক্ষতিকারক।’

যদিও সংসদে বসে তিনি ই-সিগারেট খাচ্ছিলেন, এমন কোনও অভিযোগ গিরিরাজ সিং করেননি। তবে তিনি মজার ছলে সৌগত রায়কে বলেছিলেন, ‘দাদা চুরিও খোলাখুলি করেন, ধূমপানও খোলাখুলি করেন।’

❓ কে খাচ্ছিলেন ই-সিগারেট?

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ই-সিগারেট সেবনকারী সাংসদ কে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘না। কে খেয়েছে আমি বলতে পারব না। তবে স্পিকার যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। সংসদের ভিতরে ধূমপান করার অনুমতি নেই ঠিকই, তবে বাইরের চত্বরে রয়েছে।’

সূত্রের খবর, লোকসভার অন্দরে সম্ভবত তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) ই-সিগারেট সেবন করছিলেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো পক্ষ থেকেই নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করলেই সেটা সত্যি হয়ে যায় না। কেউ ধূমপান করেননি। কাউকে যদি ধর্ষক বলা হয়, সেটা কি প্রমাণ হয়ে যায়? তৃণমূলকে অপমান করতে এসব মিথ্যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।’

স্পিকারের সিসিটিভি ফুটেজ তলবের পর এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।