হারিয়ে যাওয়া স্বাদ ফেরাতে উদ্যোগ, ফাস্টফুডের রমরমার যুগে নতুন প্রজন্মকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠের সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা।

শীতের আগমনকে আরও উৎসবমুখর করে তুলতে বারুইপুরবাসীকে এক দারুণ উপহার দিল বারুইপুর পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাব। ইলিশ উৎসবের পর এবার শুরু হলো ‘পিঠে পুলি উৎসব ২০২৫’। এই উৎসব চলবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠে-পুলির রকমারি সম্ভার নিয়ে এই আয়োজন ভোজন রসিক বাঙালিদের মন জয় করে নিচ্ছে। এই উৎসবে প্রায় ২০ রকমের পিঠেপুলি থাকছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— দুধপুলি, ভাপা পিঠে, রসবড়া, নারকেল পিঠে, শুকনো পিঠে, নারকেল পাটিসাপটা, ক্ষীরের পাটিসাপটা, মালপোয়া, নলেন গুড়ের রসগোল্লা এবং জয়নগরের মোয়া।
ঐতিহ্যকে স্বাগত জানালেন স্পিকার
ঐতিহ্য ও মরশুমের সামঞ্জস্য রেখে এমন আয়োজন করায় বারুইপুর পদ্মপুকুর ইয়ুথ ক্লাবের প্রশংসা করেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে পিঠে কিনে খেয়ে মন্তব্য করেন, “বারুইপুরের মানুষ ঐতিহ্য ও মরশুমের সামঞ্জস্য রেখে উৎসব পালন করে, আর এই পিঠে পুলি উৎসব অসাধারণ।”
হারিয়ে যাওয়া স্বাদ ফেরানোর উদ্যোগ
আজকের দিনে ফাস্টফুডের রমরমার কারণে বাঙালির সাধের পিঠে-পুলি গ্রামবাংলা থেকেও প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কচিকাঁচারা অনেকেই আগের দিনের সেই পিঠের স্বাদ জানে না। সেই অপূর্ণতা মেটাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের পদ্মপুকুরে এই পিঠে পুলি উৎসবের আয়োজন।
মন মাতানো রকমারি পিঠের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কচিকাঁচা থেকে শুরু করে প্রবীণ— সকলেই চেটে-পুটে নানা স্বাদের পিঠে খেলেন। উৎসবের এই মরশুমে এই আয়োজন বারুইপুরবাসীদের শীতের আমেজকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।