বাংলায় ভোটার হতে চেয়ে আবেগঘন আবেদন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের; নিজেকে বললেন ‘দত্তক সন্তান’

রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সংঘাত চললেও বাংলার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথা ফের একবার প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বাংলা ভাষায় হাতেখড়ি দেওয়া এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি এই বাংলার দত্তক সন্তান হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। শুধু তাই নয়, এনুমারেশন ফর্ম জমা করার শেষ দিনে কেরল নিবাসী রাজ্যপাল বাংলার ভোটার হতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনও করেছেন।
৭৪ বছর বয়সি সিভি আনন্দ বোসের জন্ম কেরলের কোট্টায়াম জেলার মন্ননামে। বৃহস্পতিবার রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যেই ৮ নম্বর ফর্ম ফিল-আপ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের আর্জি পেশ করেছেন।
নিজের আবেগকে প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন:
“বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় শ্বাস নিয়েছিলেন, আমি সেই বাংলার ভোটার হতে চাই। মানসিকভাবে, আবেগ থেকে, সাংস্কৃতিকভাবে আমি বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মতো আমিও বোস। এই বিষয়টি আমাকে বাঙালিয়ানার আবেগ দেয়। এই ভূমির মানুষ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সবকিছুই আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। আমি এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই।”
তিনি জানান, তাঁর বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মী। নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধার কারণেই মালায়লি হয়েও তাঁর নামের সঙ্গে ‘বোস’ পদবি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াকফ আইন সংশোধনী নিয়ে রাজভবন চলো মিছিল কংগ্রেসের
অন্যদিকে, এদিনই রাজ্যের ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজভবন পর্যন্ত মিছিল করে কংগ্রেস। কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। মিছিলে বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে।
অধীররঞ্জন চৌধুরী এই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন:
“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধুমাত্র নিজেদের ভোট ব্যাংক বলে মনে করেন। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বাস্তবায়ন তারই প্রমাণ। সংখ্যালঘু মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস।”
মিছিলে অংশ নেওয়া কংগ্রেসের অন্য নেতারাও এই আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার নিন্দা করেন।