ধর্ম মানে মানবতা, হিংসা নয়; ব্রিগেডে গীতাপাঠ নিয়ে বিজেপিকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত রবিবার কলকাতার ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের যে বিশাল আয়োজন করা হয়েছিল, তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে তিনি সরাসরি ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করার অভিযোগ তোলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
‘‘গীতাপাঠ তো আমরা সবাই বাড়িতে করি, যার যখন প্রয়োজন হয়। তার জন্য পাবলিক মিটিং করার কি দরকার আছে? ঠাকুর দেবতা হৃদয়ে থাকে। যে আল্লাহর কাছে দোয়া চায়, সে মনে মনে চায়।’’
ধর্ম মানে ধারণ করা: শ্রীকৃষ্ণের বাণী স্মরণ
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি নদিয়ার গুরুত্ব এবং শ্রীকৃষ্ণের বাণীর উল্লেখ করেন:
‘‘আপনারা চৈতন্যদেবের দেশের মানুষ। চৈতন্যদেবের পদধূলিতে স্বর্ণখচিত হয়ে আছে নদিয়ার রাস্তাঘাট।’’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘শ্রীকৃষ্ণ কী বলেছিলেন ধর্মের মানে? তিনি বলেছিলেন, ধর্ম মানে হচ্ছে ধারণ করা… ধর্ম মানে পবিত্রতা। ধর্ম মানে মানবতা। ধর্ম মানে মনুষ্যত্ব। ধর্ম মানে শান্তি। ধর্ম মানে হিংসা নয়।’’
হকার নিগ্রহ ও আহত বাঘের হুঙ্কার
ওইদিন ব্রিগেডে দু’জন হকারকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনা নিয়ে কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে (নাম না-করে) কড়া হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি জানান, যারা হকারের গায়ে হাত দিয়েছে, তাদের সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাঁর হুঙ্কার:
‘‘এটা বাংলা, এটা ইউপি নয়। এখানে তোমাদের গদ্দারি চলবে না। আর এখানে তোমাদের হুকুমও চলবে না… মনে রাখবেন, বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, হবে না, হবে না।’’
বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ বা নেতাজি—বাংলার মনীষীরা কেউই বিভাজনের কথা বলেননি। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘যাদের না-আছে মাথা, না-আছে ছাতা। একেকজন একেক রকম বলে যাচ্ছে। ভোট করছে লুট, আর বলছে ঝুট। কে কী খাবে, কী পড়বে সেটা নাগরিকের নিজস্ব ব্যাপার।’’
শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দেন:
‘‘মনে রাখবেন, সুস্থ বাঘের থেকেও আহত বাঘ ভয়ঙ্কর। আমাদের আঘাত করলে আমরা প্রত্যাঘাত করতে জানি। আমরা অন্যায় অবিচারে প্রতিরোধ করতে জানি।’’ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করবেন।