BPL গ্রাহকের বাড়িতে অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ বিল! প্রথমে ₹১.৯৩ লক্ষ, পরে ₹২.৮৩ লক্ষের বিল দেখে রাতের ঘুম উড়েছে ভূমিহীন বৃদ্ধের।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের ধাইখণ্ড গ্রামে দেখা দিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক অঙ্কে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে বৃদ্ধ গোলাম নবী খানের। গরিব ভূমিহীন এই বৃদ্ধের বাড়িতে BPL (Below Poverty Line) মিটার, অথচ সাম্প্রতিক বিলের অঙ্ক এসেছে ২ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা।
বিল দেখে হতভম্ব বৃদ্ধ গোলাম নবী খান এখন চরম মানসিক চাপে ভুগছেন। তিনি জানান, বহু কষ্টে বিদ্যুৎ দফতর থেকে মিটার সংযোগ নেন, কিন্তু প্রথমবার বড় অঙ্কের বিল আসে ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা। লিখিত অভিযোগ জানানোর পরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এরপর কয়েকদিন আগে হাতে আসে আরও বড় অঙ্ক, ২ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা।
এলাকাবাসীর দাবি: মানবিক হস্তক্ষেপ চাই
এই বিলকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন এলাকাবাসীরা। তাদের প্রশ্ন, “একজন BPL গ্রাহকের বাড়িতে কীভাবে এত বিপুল অঙ্কের বিল আসতে পারে?” গ্রামের মানুষের দাবি, এই বিল কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
বৃদ্ধ গোলাম নবী খান এখন এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে বিদ্যুৎ দফতরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ, এত বড় বিল কীভাবে জমা দেব? দফতরের কাছে লিখিত আবেদনও করেছি, তবু কোনো সমাধান মেলেনি।” এলাকাবাসীরা গোলামকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়ে দ্রুত মানবিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দফতর সূত্রে কী জানা যাচ্ছে?
অন্যদিকে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎ দফতরের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে চন্দ্রকোনা বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, ২০১০ সাল থেকে নাকি কোনো বিল পরিশোধ করেননি গোলাম নবী খান।
দফতরের দাবি, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তার পরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও গ্রামবাসী মনে করছেন, তদন্ত যতই হোক, একজন দরিদ্র BPL গ্রাহকের কাছে এমন অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল আসা নিজেই বড় প্রশ্নের বিষয়। এখন প্রশাসনের সদুদ্যোগের ওপরই নির্ভর করছে বৃদ্ধ গোলাম নবী খানের সমস্যার সমাধান।