“সরকারি মদতে খুনের চক্রান্ত”- দাবি BJP-র, শাহজাহান মামলার অন্যতম সাক্ষীর পথ দুর্ঘটনা

সন্দেশখালিতে শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে ইডির উপর হামলার মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভোলানাথের আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দু’জনের। বুধবার বাসন্তী হাইওয়েতে এই ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হয়েছে ভোলানাথের ছোট ছেলে এবং তাঁদের গাড়িচালকের। মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভোলানাথ নিজেও। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল গোটা বাংলায়।
‘পরিকল্পিত হত্যা’র অভিযোগ পরিবারের
ঘটনার পর নিহতদের পরিবার একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। পরিবারের অভিযোগ, এটি মোটেই স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা। ভোলানাথের বড় ছেলে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবা-ভাইকে খুনের ষড়যন্ত্রই করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা মতোই ঘটানো হয়েছে এই দুর্ঘটনা।’ তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দিকে হুমকি আসছিল।
কী ঘটেছিল বাসন্তী হাইওয়েতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসন্তী হাইওয়েতে সাক্ষীর চারচাকা গাড়িটি উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। লরিটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে উলটে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
জখম ভোলানাথকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে মিনাখাঁ হাসপাতালে এবং পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
লরিচালক শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ?
দুর্ঘটনার পর লরির চালক পলাতক। পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে মৃতের পরিবারের আরও বিস্ফোরক দাবি, ওই লরিচালক সন্দেশখালির বাসিন্দা এবং জেলবন্দি শাহজাহান শেখের ঘনিষ্ঠ অনুগামী। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই লরি দিয়ে গাড়িতে ধাক্কা মেরেছে সে।
জেলবন্দি শাহজাহান শেখ আগেও সন্দেশখালির বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। বুধবারের দুর্ঘটনার পর এই অভিযোগই আরও জোরাল হয়ে উঠেছে।
বিজেপির তীব্র আক্রমণ
এই ঘটনার পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র সুরে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা পরিকল্পিত স্টেট স্পনসর্ড হত্যার চক্রান্ত। শাহজাহানই তৃণমূল, তৃণমূলই শাহজাহান। তার বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দিলে সে বেঁচে যাবে, এটা অসম্ভব। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হোক।”
এই দুর্ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে বড়সড়ো প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।