SIR-বাংলাদেশির এ কী কাণ্ড! কিশোরের কাজ জানলে চমকে যাবেন আপনিও

পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার এক ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই এই গুরুতর অনিয়মের হদিশ মিলেছে।
অভিযোগ, এক যুবক নিজের এসআইআর ফর্মে একই ওয়ার্ডের একজন মৃত ব্যক্তিকে বাবা পরিচয় দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করেছেন। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন বিধাননগর পুরনিগমের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে এই ঘটনা।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক, কিশোর রাজবংশী, মৃত দীনেশ রাজবংশী নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর বাবা হিসেবে দেখিয়েছেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর সন্দেহ হয় যখন দেখা যায়, ফর্মে উল্লেখিত বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্য নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক নয়। এরপরেই খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীনেশ রাজবংশী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা গিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, অভিযুক্ত কিশোর রাজবংশী বিধাননগর পুরনিগমের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ নাগের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, এই কিশোরের আসল বাবা বাংলাদেশে রয়েছেন এবং সেখানেই তাঁর যাবতীয় ভোটার কার্ডসহ পরিচয়পত্র রয়েছে।
এই ঘটনায় মৃত দীনেশ রাজবংশীর পরিবার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মৃত দীনেশ রাজবংশীর স্ত্রী মিনা রাজবংশী সরাসরি দাবি করেছেন, “আমি চিনি না। আমার ছেলের নাম লিটন রাজবংশী। আমার আর কোনও ছেলে নেই। ও আমার বরকে বাবা বানিয়েছে। উনি প্রায় ১৪ বছর আগে মারা গিয়েছেন। আমি শুনেছি এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ওই ছেলেটাকে আমি দেখিনি কখনো চোখে। তবে আমি বলে দিচ্ছি আমার একটাই ছেলে।”
মৃত দীনেশ রাজবংশীর মেয়ে রিয়া রাজবংশীও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার দাদার নাম লিটন রাজবংশী। আমি কোনও কিশোর রাজবংশীকে চিনি না। আমার আর কোনও দাদা নেই। আমি প্রথমবার নাম শুনলাম ওঁর।”
পরিবারের এই দাবির পর এটি স্পষ্ট যে, কিশোর রাজবংশী অবৈধ উপায়ে মৃত দীনেশ রাজবংশীর পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।