নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারে ভাঙন, মুহাম্মদ ইউনূসের পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করলেন দুই উপদেষ্টা

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের দিন ঘোষণার ঠিক আগে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করলেন দুই উপদেষ্টা, মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের কোনও পদে থাকা ব্যক্তি ফেব্রুয়ারিতে হতে চলা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এই ঘোষণার পরেই এই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেন।

মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া স্থানীয় সরকার, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ-সহ আরও কয়েকটি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাতেন। ইউনূস তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তাঁর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বার্তায় এই দু’জনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, “আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাতে তাঁদের ভূমিকা বাংলাদেশ কোনওদিন ভুলবে না। এত কম সময়ের মধ্যে জাতি নির্মাণে তাঁরা যে অবদান রেখেছেন, তা চিরকাল বাংলাদেশের নাগরিকরা মনে রাখবেন।”

রাজনীতির ময়দানে ছাত্রনেতারা:

মাহফুজ এবং আসিফ দু’জনেই ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিলে তাঁরা উপদেষ্টা হন। এর আগে ছাত্র আন্দোলনের আরও এক নেতা নাহিদ ইসলামও উপদেষ্টা পর্ষদ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি গঠন করেছিলেন। মাহফুজ আলম আগেই জানিয়েছিলেন, তিনিও আগামী নির্বাচনে লড়বেন। এবার উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি আরও একবার সেই বার্তা দিলেন।

নির্বাচনী আবহে সরগরম রাজনীতি:

মঙ্গলবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের প্রধান এএমএম নাসিরউদ্দিন জানান, দিনদুয়েকের মধ্যেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা হবে। এই ঘোষণার একদিনের মধ্যেই দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনল।

গত ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন সরকার চালাচ্ছে। এবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। অন্যদিকে, একদা টানা তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেতা আওয়ামী লীগ এবারের ভোটে নেই। দলের নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মানবাধিকার বিরোধী অভিযোগের মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপের উপর বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন, যার পর নির্বাচন কমিশনও হাসিনার দলকে ভোটে লড়ার অনুমতি দেয়নি।

এছাড়াও, পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা জামাতও এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ দখল করেছে জামাতের ছাত্র সংগঠন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন দল এনসিপি নিজেদের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ শক্ত করছে।