জলপাইগুড়ির কাছেই ‘ফুলের গ্রাম’! ৩০ বিঘা জুড়ে গাদা, চন্দ্রমল্লিকার চাষ, শীতকালে আপনার ডেস্টিনেশন হিট

শীতকাল মানেই বাঙালির উৎসবের মেজাজ, আর ফেস্টিভ মুড মানেই প্রকৃতির কাছাকাছি সুন্দর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় প্রিয়জনদের সঙ্গে রোমান্টিক সময় কাটানোর বা পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য এমন মন মুগ্ধকর স্থান কোথায় আছে? জলপাইগুড়িবাসীর জন্য রইল সেই ‘ফুলের গ্রাম’-এর খোঁজ।
হাতে অল্প সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই ‘ফুলের গ্রাম’ থেকে, যা আপনার ডেস্টিনেশন হিট হতে পারে। ধূপগুড়ি মহকুমার বারঘোরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য বোড়াগাড়ি এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে এক রঙিন বিস্ময়। যতদূর চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল!
অর্থনৈতিক শক্তি: ৩০ বিঘা জুড়ে রঙিন স্বপ্নের চাষ
শীতকালীন বিকল্প চাষ হিসেবে এই অঞ্চলের কৃষকরা ফুল চাষে জোর দিয়েছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ যেন বদলে দিয়েছে গোটা এলাকার চিত্র। এই গ্রামকে এখন অনেকেই আদর করে ‘ফুলের গ্রাম’ নামে ডাকেন। গ্রামের প্রায় ১৫টি কৃষক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখী, পেনজি, ডেনটাস সহ দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফুল। কৃষকরা দাবি করছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় ফুল চাষ তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। ফলে অভাব-অনটনের দিন পেরিয়ে এলাকার বহু পরিবার এখন স্থিতিশীল ও স্বাবলম্বী আয়ের পথে হাঁটছেন। ফুল চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের দিশা দেখাচ্ছে।
মহিলাদের অংশগ্রহণে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি
এই ফুল চাষের কাজে শুধু পুরুষরাই নন, মহিলারাও সমানভাবে যুক্ত। গাছ পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ—সবেতেই তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রামের অর্থনীতিতে এক নতুন শক্তি এবং আত্মনির্ভরতার পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয় এই ফুলের চাহিদা শুধু জলপাইগুড়িতেই নয়, শিলিগুড়ি, ইসলামপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছেও ব্যাপক। খুচরো ও পাইকারি—দুই বাজারেই এই ফুলের চাহিদা ওঠানামা করছে। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নানা প্রজাতির ফুলের চারা, যা কৃষকদের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, কৃষি দফতরের প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে এই চাষ আরও উন্নত হবে এবং উৎপাদন বাড়বে। বিকেল নামলেই সৌন্দর্যের টানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান এই ফুলের গ্রামে, যা এখন এলাকার মানুষের গর্ব, পরিশ্রম আর আশার প্রতীকও বটে।