গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে রাজনীতি, হিন্দীকে জাতীয় ভাষা বলায় রাজ্যপালের নিন্দা, একাধিক ইস্যুতে সরব কুণাল ঘোষ

বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার লোকসভায় আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেন, তখনই তোলপাড় শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘অপমান’ করার অভিযোগ
সোমবার কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলেন:
“প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে অবগত নন। তাই তাঁকে বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন করলেন। এর ফলে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং সমগ্র বাংলাকেই তিনি অপমান করলেন।”
তৃণমূল নেতা আরও বলেন, “আমাকে বলুন, যাঁরা বঙ্কিমদা সম্বোধন করছেন, তাঁরা কেউ কি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কীর্তি এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান সম্পর্কে জানেন? নরেন্দ্র মোদি শুধু মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেই নয়, সমগ্র দেশ এবং পশ্চিমবঙ্গকে অপমান করছেন।”
লোকসভায় সংশোধনের ঘটনা
উল্লেখ্য, এদিন লোকসভায় বক্তৃতা করার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখে একাধিকবার ‘বঙ্কিমদা’ শোনা যায়। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা আপত্তি জানালে, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় প্রধানমন্ত্রীর ভুল ধরিয়ে দেন। তৎক্ষণাৎ প্রধানমন্ত্রী মোদি এর জন্য সৌগত রায়কে ধন্যবাদ জানান। এরপর অবশ্য প্রধানমন্ত্রী আর ‘বঙ্কিমদা’ বলেননি; প্রতিবারই তাঁকে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলতে শোনা গিয়েছে।
গীতা পাঠ ও রাজনীতি
রবিবার কলকাতার ব্রিগেডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যে হইচই পড়েছে, সে বিষয়েও কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “গীতাপাঠের অনুষ্ঠানকে তো বিজেপির অনুষ্ঠান বানিয়ে দেওয়া হল। যাঁরা প্রশ্ন করছেন, মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই অনুষ্ঠানে যাননি, তাঁদের পালটা প্রশ্ন করতে চাই দীঘাতেও জগন্নাথদেবের মন্দির উন্মোচনে কেন দিলীপ ঘোষ যাওয়া স্বত্ত্বেও শুভেন্দু অধিকারী গেলেন না?”
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “আমরা কোরান এবং গীতাকে সমানভাবে সম্মান করি। কিন্তু যারা এটি নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের নিন্দা করি। যাঁরা এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁরা কি গীতা পড়েছেন নিজেরা?”
রাজ্যপালের হিন্দি ভাষাপ্রীতি নিয়ে প্রশ্ন
অন্যদিকে হিন্দীকে জাতীয় ভাষা উল্লেখ করায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের নিন্দা করতেও পিছুপা হননি কুণাল।
কুণালের মন্তব্য: তাঁর কথায়, “ভারতে ২২টি ভাষা সরকারি ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনও একটি ভাষাকে জাতীয় ভাষা বলা যায় না। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নিজে একজন প্রাক্তন আইএএস অফিসার এবং তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে ভারতে কোনো একটি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না। সংবিধানে সকল ভাষার সমান গুরুত্ব রয়েছে। তা সত্ত্বেও, রাজ্যপাল হিন্দিকে জাতীয় ভাষা বলেছেন। তাঁর এই সমস্ত বিষয়ের যত্ন নেওয়া উচিত।”