‘জ্যোতি বসু বলেছিলেন BJP বর্বর দল, মমতা বলেছিলেন বন্ধু’, মুর্শিদাবাদে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ সেলিমের

বাবরি মসজিদ নির্মাণ ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পদক্ষেপ নিয়েই সোমবার তীব্র প্রশ্ন তুললেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি জানতে চাইলেন, কেন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আগে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত ২৯ নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া সিপিআইএম-এর ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ সোমবার মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভার ৭-৮টি জায়গায় সমাবেশ করে। সেখানেই হুমায়ুন কবীর ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন মহম্মদ সেলিম।
হুমায়ুন কবীর ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ
হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার পর সেলিম তৃণমূলের দ্বিচারিতা নিয়ে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন:
“ঠিক যেদিন মোদি বাংলায় আসেন, সেদিনই হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে ৩০ শতাংশ হিন্দুকে ভাগরথীতে কেটে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূল হুমায়ুনকে বহিষ্কার করেনি। কারণ, সেই বিভাজনের বক্তব্য হুমায়ুনের নিজের ছিল না, তৃণমূল দলের ছিল। আর আজ যখন বাবরি মসজিদ স্থাপনের বিষয়টি চলে এল, তখন হুমায়ুনের নিজস্ব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। বের করে দিল। এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বিভাজনের রাজনীতি
এসআইআর (Special Intensive Revision) অর্থাৎ ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, “২০০২-এর ভোটার তালিকা ডাউনলোড করবেন না। সেই বাংলাকেও ডাউনলোড করুন। জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘বিজেপি বর্বর দল’। মমতা বলেছিলেন, ‘বন্ধু’। আমরা বলছি, মন্দির-মসজিদ যে ধর্ম করে, তাকে মানায়। সরকারের কাজ রাস্তা, স্কুল করা। কেন রানিনগরে কলেজ হয়নি?”
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফলে কালোবাজারি বেড়েছে, শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না এবং ভাষা ও পোশাকের নামে বিভেদ করা হচ্ছে। এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানান সেলিম।
সিপিআইএম-এর বক্তব্য: মাটির রাজনীতি এবং বাংলার যুব সমাজ
সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আভাস রায় চৌধুরীও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি তৃণমূল-বিজেপি উভয়কেই নিশানা করেন:
মাটির নামে রাজনীতি: তিনি বলেন, “বামফ্রন্টের অপরাধ ছিল খেতমজুর, দিনমজুর, গরিবের জন্যে কাজ করেছে। আর এরা মাটির নামে রাজনীতি করে। আর তলে তলে মাটি বেচে দেয়।”
শিক্ষিত যুবকদের দুর্দশা: “গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা যত কম শিখবে, তত লাভ তৃণমূল-বিজেপির। রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বাইরের রাজ্যে কাজে যাচ্ছে। তারপর কফিন বন্দি হয়ে ফিরছে।”
বামফ্রন্টের কাজের পরিসংখ্যান
আভাস রায়চৌধুরী বামফ্রন্ট সরকারের কাজের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “১৯৭৭ সালে সরকারে এল, তখন গরিবির আওতায় ৮০ শতাংশ। যখন বিদায় নিচ্ছে, তখন ২০ শতাংশ মানুষ গরিবির আওতায়। বামফ্রন্ট ধান, পাট উৎপাদন অনেক ওপর নিয়ে যেতে পেরেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “বামফ্রন্ট জমি দিয়েছিল কৃষিজীবীকে। অধিকার ছিল না জমির। ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত মাটির মানুষকে অধিকার দিয়েছিল। আর আজ যারা ক্ষমতায়, তারা তলায় তলায় মাটি বেচে দিচ্ছে। বামফ্রন্ট আসার পর বাবুর বাড়ির ভাতের জন্য বসে থাকত না কৃষকের ঘরের ছেলেমেয়েরা।”